Monday, December 5, 2016

''বদনা বিষয়ক ভাবনা ''

.......................................
( ১ম পর্ব )
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠিয়া তাহার গলা না ধরিলে কেমন করিয়া চলে ! সেই মুহূর্তে তাহাকেই একমাত্র আপন বলিয়া মনে হয় । সে যে কি যাদু জানে, সেই জানে ! আজ সকালবেলা বৈকুণ্ঠে গিয়ে তাহার শ্রীরূপ প্রত্যক্ষ করিয়া নয়ন ভরিয়া গেল । আহা ! সামাদ স্যার ঠিকই বলিয়াছিলেন ,’’ মানব সভ্যতার সেরা আবিষ্কার বদনার নাল! ‘’ আহা ! বদনা , তার এবার নাল !’’
আমি বসিয়া বসিয়া সেই নাল আবিষ্কার করার শুভক্ষণের কথা কল্পনা করিতে লাগিলাম ।
মনে পড়িল সেই মনিষীর কথা । যিনি বলিয়া ছিলেন ,’’ কোন জাতিকে অপমান করিতে চাও , তাহলে তাহার বদনাগুল ধ্বংস করিয়া ফেল ।‘’
বদনার মাহাত্ম্য বলিয়া শেষ করা যাইবে না , তাই হয়তো বদনা লইয়া কবিরা মহাকাব্য লিখিবার সাহস দেখান নাই । তবে কেউ কেউ সেই দুঃসাহস দেখাইয়া রচনা করিয়াছেন চিরস্মরণীয় সেই কবিতা ,
‘’ শোন , মা জরিনা , বদনাটা কই ?
ত্বারা করে মোরে বল ।
প্রকৃতির ডাক আসিয়াছে মোর
এখনি লাগিবে জল । ‘’


শোনা যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার বনে গিয়ে বদনার সঙ্কটে পড়িয়াছিলেন । তখন তিনি রচনা করিয়াছিলেন সেই আমর কবিতাঃ
‘’ সে দিন দুজনে হেগে ছিনু বনে ,
বদনা ছিল না সাথে ,
তাল পাতা দিয়ে পাছা মুছে তাই
চলে আসিছিনু ঘরে ।‘’
এ প্রসঙ্গে এক লৌকিক কবিকে বাথরুমে গাহিয়া উঠিতে শুনিয়াছিলামঃ
‘’বদনা আমার ছ্যাদা হইয়া গেছে
পানি থাকে না । ‘’
এই পানি না থাকার অভিজ্ঞতা যাহার হইয়াছে , সে ইহকালে নরক ভোগ করিয়াছে , সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই বলিয়া মনে হইতেছে । একবার এক মহৎ ব্যাক্তি বাথরুমে যাইবেন বলিয়া স্থির করিয়াছেন কিন্তু তাহার বন্ধু মদন তাহাকে জব্দ করিবার জন্য বদনাখানা লুকাইয়া রাখিয়াছিলেন তখন তিনি গাহিয়ছিলেন, সেই আধ্যাত্মিক গান,
‘’ চাহি বদনা , বদনা দেয় না , মদনে
আমি বাথরুমে যাবো কেমনে ?
আমি বাথরুমে যাবো কেমনে ?’’
আমার দাদু তাহার এক বন্ধুর বিয়েতে গিয়েছিলেন । তাহারা যাইয়া দেখেন পাত্রী পক্ষ বিয়ের পাত্রী উলটাইয়া দিয়াছে । ছোট বোনকে দেখাইয়া , এখন বড় বোনকে বিয়ের পিড়িতে বসাইয়া দিয়াছে । পাত্র তাহা বুঝিতে পারিয়া , বিয়ের পিড়িতে বসিয়াই বলিল আমার বাথরুমে যাওয়া দরকার । তখন পাত্রী পক্ষ তাহাকে বাথরুমে লইয়া গেলে , তিনি বদনা লইয়াই দৌড়ে পালিয়েছিলেন ।
আমি ভাই , গ্রামের মানুষ , মাঝে মাঝে কোন শহুরে বাড়িতে কিংবা হোটেলে গেলে বাথরুমে দেখি বদনা নাই ! তখন যে আমার অবস্থা কি হয় , তাহা আমি জানি আর উপরওয়ালা জানেন ! ( আর তখন ব্যাকগ্রাউন্দে মিউজিক বাজেঃ
‘’এতো কষ্ট মেনে নেওয়া যায় না !
নিষ্ঠুর হোটেল ওয়ালা / বাড়ি ওয়ালা ।‘’ )
( চলবে ............)

Friday, December 2, 2016

বাঁশ

রাজীব ঢালী
-----
বাঁশ
ইহা আমার খুবই প্রিয় খাদ্য । বাঁশ ছাড়া আমার চলেই না । বাঁশের সুপ , বাঁশ ভাজি , বাঁশের তরকারি , বাঁশের পরটা , বাঁশের মামলেট , বাঁশের ভর্তা , বাঁশের খুচুরি কত খাইয়াছি , ভবিষ্যতে আরও খাইব । মাঝে মাঝে এমন ও বাঁশ খাইয়াছি, যাহা নিচের দিকের কোন এক দরজা দিয়া ঢুকিয়া উপরের দরজা দিয়া বাহির হইয়া গিয়াছে । তবুও তাহা হজম করিয়াছি । বাঁশ হজমে বিশেষ ক্ষমতা আমার আছে । না হইলে এতো বাঁশ হজম করি কি করিয়া ! বাঁশের নাম শুনিলেই এখন জিভে জল আসিয়া পড়ে , খাইতে ইচ্ছা করে । আমার হাতে ক্ষমতা থাকিলে বাঁশকে জাতীয় খাদ্য ও বৃক্ষ হিসেবে ঘোষণা করিয়া তবেই ক্ষান্ত হইতাম ।
আশা করিতেছি এই নির্বাচনে জিতিয়া , দেশের প্রধান হইব এবং জাতীয় বাঁশ নীতি , জাতীয় বাঁশ গবেষণা Institute , জাতীয় বাঁশ রক্ষা কমিটি , সংসদীয় বাঁশ কমিটি গঠন করিব ।
ঘরের আঙ্গিনায় বাঁশ রোপণ বাধ্যতামূলক করিব এবং খাবার সময় বাঁশের একটা আইটেম বাধ্যতামূলক করিব । বাঁশই আমাদের ঐতিয্য । সুতরাং বাঁশ কে রক্ষা করিতে যাহা করা লাগে তাহাই করিব । বাঁশ সম্পর্কিত যত সাহিত্য আছে , তাহাকে জাতীয় সাহিত্য বলিয়া ঘোষণা করিব । এবং বাঁশ দ্বারা পিটানো ও অন্যান্য বাঁশ দ্বারা পরিচালিত খেলাকে জাতীয় খেলা বলিয়া ঘোষণা করিব । বাঁশ দ্বারা পিটানো প্রতিযোগিতার আয়োজন করিব এবং ‘’বিশ্ব বাঁশ কাপ’’ আয়োজন করিব । যাহাতে বাঁশের মহিমা ও গৌরব সম্পর্কে বিশ্ববাসী জানিতে পারে ।
পাঠ্যপুস্তকে বাঁশ সম্পর্কে জ্ঞানীগুণীরা এখনো কিছু অন্তর্ভুক্ত করেন নাই । কিন্তু আমি করিব । পাঠ্যপুস্তক হইবে বাঁশময় । বাঁশের গুণগান থাকিবে সর্বত্র ।গ্রামে গ্রামে বানরের তৈলাক্ত বাঁশ বাহিয়া ওঠা প্রতিযোগিতার আয়োজন হইবে !ভাবিতেই আমার ভালো লাগিছে ।
বাঁশ কাটিয়া যে খাতা তৈরি করা হয় । তাহা নিষিদ্ধ করিব । সুতরাং পরীক্ষা দেওয়ার ঝামেলা হইতে ছাত্ররা মুক্ত হইবে । আর হ্যাঁ , দেশে যৌতুক নিষিদ্ধ করিয়া , বাঁশ দেওয়া চালু করিয়া দিব ।
থাক হইয়াছে আজ আর আপনাদের বাঁশ দিবো না । সামনের ভাষণে দিবো । সাথে করিয়া সরিষার তৈল ফ্রি দিব , যাতে বাঁশ খাইতে যেন বেশি কষ্ট না হয় ।

Tuesday, November 29, 2016

''ওস্তাদ, মহিলা আছে ''

...........................
বাসে উঠিয়াই দেখিলাম তিন সারি সিট খালি পড়ে রয়েছে । কিন্তু কোন বীরপুরুষ সেখানে বাসার সাহস করিতেছে না । আমি চার পাশ দেখিয়া বুঝিতে চেষ্টা করিলাম , তারপর ধপ করে ইঞ্জিন কভারের উপরে বসিয়া পড়িলাম । আর বার বার ফাঁকা সিটগুলির দিকে তাকাইতে লাগিলাম । ওখানে এক চশমাওয়ালী অষ্টাদশীকে ছাড়া আর কাউকে দেখা যাইতেছে না । ওখানে বসিলে ক্ষতি কে ? কিন্তু চারপাশে যে সকল বীর বানরের মত ঝুলিতেছে কিন্তু বসিতে সাহস করিতেছে না , তাহাদের দেখিয়া মনে হইলো , এই সেই নিষিদ্ধ গন্দম ফল , যাহা খাইলে এখনি বাস থেকে নির্বাসিত করা হইবে । ইহার পরে কত জম্বুবান , হনুমান , রাবণরাজ বাসে উঠিলেন , কেহই ওখানে বসিতে সাহস করিলেন না ।
এতক্ষণে , মাথায় বুদ্ধি কাজ করিতে আরম্ভ করিল । মনে পড়িল সেই ‘’সিডো সনদ’’ সেই ‘’UDHR’’ এর কথা , সেই ১২০ মাইল বেগে প্রদত্ত সাহানা নাসরিন ম্যামের লেকচারের কথা । আহা ! দেশে আজ কেমন নারী অধিকার প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে ! সিট খালি রহিয়াছে , কিন্তু কোন পুরুষ সেখানে বসিতেছেনা অথচ পুরুষদের সিটে নারীরা দিব্যি বসিয়া রহিয়াছে ! সেই দেশের নাগরিক হইয়া আমার বুকটা গর্বে ভরিয়া উঠিল ।
বাসে উঠিলে কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার ঘুম আসিয়া পড়ে । এবারো আসিয়া পড়িল , আমি ঘুমাইতে লাগিলাম । স্বপ্নে দেখিলাম , আমি ঐ ফাঁকা সিটে মিশরের রানী ক্লিওপেট্রার কাঁধে মাথা রাখিয়া ঘুমাইতেছি । আর ট্রয় এর হেলেন আমায় বাতাস করিতেছে ! এমন সময় রোমের সম্রাট সিজার আসিয়া তাহার তলোয়ারের ধাক্কায় আমায় ঘুম ভাঙ্গাইয়া দিল ! মেজাজটা এমন গরম হইল যে ব্যাটাকে একটা ‘’ও গোশি’’ মারিয়া বাসের বাহিরে ফেলিয়া দিলাম ।
বাসের সবাই চেঁচামেচি শুরু করিয়া দিল । ঘুম ভাঙ্গিয়া দেখিলাম হেল্পার কান্নাকাটি করিয়া বলিতেছে , মামা দিলেন তো মাজাটা ভাঙ্গিয়া ? আমি তো আপনারে শুধু শাহবাগ আসিয়া গিয়াছে বলিয়া ধাক্কা দিয়া ঘুম ভাঙাইতে চাহিয়াছিলাম মাত্র ।
আমি শুধু ‘’ধুর ব্যাটা চুপ থাক’’ বলিয়া ৫ টাকা ওর হাতে গুজিয়া দিয়া , ‘’ঔষধ কিনিয়া খাস,’’ বলিয়া বাস হইতে নামিয়া পড়িলাম  ।

Wednesday, November 23, 2016

সুন্দরী রাধে আওয়ে বনি

সুন্দরী রাধে আওয়ে বনি |
. ব্রজরমণীগণ মুকুটমণি ||
কুঞ্চিতকেশিনি, নিরুপমবেশিনি,.
রস—আবেসিনি ভঙ্গিনি রে
অধরসুরঙ্গিণি, অঙ্গতরঙ্গিণি,.
সঙ্গিনি নব নব রঙ্গিণি রে ||
কুঞ্জরগামিনি, মোতিমদশনি,.
দামিনি-চমক-নেহারিনি রে |
আভরণধারিণি, নব অভিসারিণি,.
শ্যামর হৃদয়বিহারিণি রে |
নব অনুরাগিণি, অখিলসোহাগিনি,.
পঞ্চম রাগিনী মোহিনি রে |
রাসবিলাসিনি, হাসবিকাশিনি,.
গোবিন্দদাস-চিত-শোহিনি রে ||
https://www.youtube.com/watch?v=CTfCIicNxF4

সজনি সজনি রাধিকা লো

সজনি সজনি রাধিকা লো
দেখ অবহুঁ চাহিয়া,
মৃদুলগম শ্যাম আওয়ে
মৃদুল গান গাহিয়া।
পিনহ ঝটিত কুসুমহার,
পিনহ নীল আঙিয়া।
সুন্দরী সিন্দূর দেকে
সীঁথি করহ রাঙিয়া।
সহচরি সব নাচ নাচ
মিলন-গীতি গাও রে,
চঞ্চল মঞ্জীর-রাব
কুঞ্জগগন ছাও রে।
সজনি অব উজার মঁদির
কনকদীপ জ্বালিয়া,
সুরভি করহ কুঞ্জভবন
গন্ধসলিল ঢালিয়া।
মল্লিকা চমেলী বেলি
কুসুম তুলহ বালিকা,
গাঁথ যূথি, গাঁথ জাতি,
গাঁথ বকুল-মালিকা।
তৃষিতনয়ন ভানুসিংহ
কুঞ্জপথম চাহিয়া
মৃদুল গমন শ্যাম আওয়ে,
মৃদুল গান গাহিয়া।
https://www.youtube.com/watch?v=lr14hTmu0Ao

Thursday, November 17, 2016

Saturday, November 12, 2016

বাংলা গানের ঘাড়ে ইংরেজ জ্বীনের আসর্ঃ

Noman Abdullah

"কানের নীচে" শব্দযুগল আমার কাছে খুবই পছন্দনীয়। জ্ঞাতার্থে বলি, ছবিটা 'কু'ক' এস্টুডিও'র '' সুন্দরী কমলা"র । 'অর্বাচীনেরা' বলবে., 'প্রাচীনের'ই সমস্যা। আরে ভাই, পরের 'নলখাগড়া' ধরে টানাটানি করলে যদি স্মার্ট হওয়া যায়, তাইলে আমি এই বান্দরের ছবি পাইলাম কই?
তোমরা আসলে চাও কী? দেশি-বিদেশী কম্বিনেশন্? 'শংকরে' তো 'সংখ্যা-আয়তন-পরিমাণ' বাড়ে; 'স্বাদ-গন্ধ-গুণাগুণ' বাড়ে না।
এভাবে বাংলা গানের '২৩' না মেরে বাঁদরামি করতে চাইলে 'যাত্রা'র মঞ্চে যাও। পাবলিক খাবে বেশ।
আমাদের জুনিয়র'রা অবশ্য এখনো 'জুনিয়র হরলিক্স' হিসেবে খেতে চায়..........!!
ভালো তো লাগবেই রে ভায়া!! বয়স তো কম! তবে ভুলে যাসনে.-
এটা আমার দেশে সিনেমার অশ্লীল দৃশ্যের পোশাক; বাংলা গানের নয়।
কী হে দিদি!! চটে গেলি নাকি। রেজারের বিজ্ঞাপনই মেয়েছেলে ছাড়া চলেনা! =কি যে বলো না>> এতো গানের বিজ্ঞাপন!!
*যথার্থই বিজ্ঞাপন (গানের নাকি .......?); সঙ্গীত নয়। আমার অর্বাচীনেরা তো ছুটছে এই পণ্যবাহী পণ্যের পিছেই////.....
রুচির নিকুচি করি সাড়ে সাতবার!!
কাজের কাজ তো পরে-
সোজা হয়ে হাঁটতে না পারার দুঃখে ক্যাটওয়াকের মডেল হয়ে গেলে..!? এই যদি তোমার 'নারীমুক্তি'; প্রত্যাশা তো বেড়ে যাবে দিদি! "নারী থেকে মুক্তি"।
গাইতে না পারলেও চিরকাল বন্ধুদের আড্ডায় বাউল-ফোকের সার্ভিস দিয়ে এসেছি বাংলা গানকে ভালবেসেই। সেই বাংলা গানের দুর্দশা দেখলে "প্রাচীন" মনে "অর্বাচীন" বয়সের ইচ্ছাটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে- - - - "কানের নীচে ঠাঁটায়ে একটা চড় দিতে পারতাম"!!!