Showing posts with label সঙ্গীত. Show all posts
Showing posts with label সঙ্গীত. Show all posts

Monday, May 7, 2018

ও ছোট দেওরা রে-

ও ছোট দেওরা রে-
প্রেম করিতে যদি চাও
বাপ-ভাই ছাড়ান দাও (হে)
আর ছাড় এই দ্যাশের বসতি (হে)।।

ও ছোট দেওরা রে-
ভাসুর শ্বশুর শুইয়া থাকে
উঁচা ডোরা বড় ঘরে (হে)
আমি থাকি ঐ না ভাঙ্গা ঘরে (হে)।।

ও ছোট দেওরা রে-
মোর সোয়ামী গাঁজাখোর
সাইজা দেওরা ঘুমে ভোর (হে)
ছোট দেওরা রসিকা নাগর (হে)।।

ও ছোট দেওরা রে-
পাখির ভালো গান সরলা
নারীর ভালো চিকন কালা (হে)
পুরুষ ভালো রসিকা নাগর (হে)।।

ও ছোট দেওরা রে-
ভুঁই নষ্ট আড়াইলা ঘাসে
নারী নষ্ট গাঙ্গের ঘাটে (হে)
পুরুষ নষ্ট শহর-বাজারে (হে)।।

(সংগ্রাহক - জসীম উদ্দীন)


Wednesday, February 28, 2018

আমার স্বরতন্ত্রী কেপে ওঠে যার কম্পনে সে তো আমার মাতৃভাষা আমার মায়ের বুলি,
আমার খাতায় ফুটে ওঠে যার জ্যামিতিক রেখা সে আমার মায়ের ভাষার পেশীর অবয়ব, 
আমার কর্নকূহরে বেজে ওঠে যে গানের স্বরলিপি
সে আমার বাংলা ভাষার সুমধুর ধ্বনি ।

Wednesday, February 22, 2017

কে যাসরে রঙিলা নার মাঝি ! - জসিমউদ্দিন

কে যাসরে রঙিলা নার মাঝি  !
সামের আকাশরে দিয়া,
আমার বাজানেরে   কইও খবর,
নাইওরের লাগিয়ারে ।
গলুইতে লিখিলাম লিখন সিন্তার সিঁদুর দিয়া,
আমার বাপের দেশে দিয়া আইসো গিয়া
-      রে রঙিলা নার মাঝি !
আমার বুকের নিঃশ্বাস পালে নাওন  ভরিয়া,
ছয় মাসের পন্থ  যাইবা ছয় দণ্ডে চলিয়া,
-      - রে রঙিলা নার মাঝি !

Tuesday, February 21, 2017

''আমার বাড়ি যাইতে বন্ধু রে

''আমার বাড়ি যাইতে বন্ধু রে
কার বা রাখো ডর
ভাসুর আমার গা’র চকিদার
শ্বশুর দফাদার রে
যাইতে যদি ইচ্ছা কর রে
আমি থাকবো পথে
নেচে নেচে যাইও বন্ধু
আমার ঘর মাঝে রে''

Wednesday, February 15, 2017

তোমার পূর্ণ বক্ষে বুঝবে না মোর শুন্য বক্ষের ব্যাথা ।

নদীকে দুঃখের কথা শোনাতে  আমার ভালো লাগে ।  ব্রহ্মপুত্র নদকে একবার বলেছিলাম মনে রাখিস রে নদ একদিন তোর উপর দিয়ে দুজনে পার হয়ে গিয়েছিলাম । হয়তো একদিন সেও থাকবে না আমিও থাকবো না কিন্তু নদ থাকবে । কেউ কোনদিন মনেও রাখবেও না  একহাজার কিলোমিটার দূরের  কুমার নদীর পাড়ের  এক ছেলে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের এক মেয়ের প্রেমে পড়েছিল ।    
ভালবাস্রার মানুষ হারিয়ে যায় কিন্তু  নদীর পাড়ের স্মৃতি রয়ে যায় । নদীর পাড়ে আমার স্মৃতি অনেক । নদীকে শোনাই আমার দুঃখের  কথা । এই  নদী দিয়ে আমার প্রিয়তমা একদিন পার হয়ে যাবে , যদি সে আমার কথা তাকে  মনে করিয়ে দেয় !   

নদীকে মনের কথা বলে মানুষ কতো গান গায় , আমার সংগ্রহে থাকা এমন কিছু করুন সুরের ধীর লয়ের ভাটিয়ালী গান , মন খারাপ থাকলে যা শুনে মন ভালো করি ।

১।  ও ভরা ভাদরের নদী
   জানো নি তার কথা
   ও আমায়  ঢেউ এর হাতে তুলে দিয়ে
   ও আমার বন্ধু গেল কোথা
……………………………
   -বিজয় সরকার

 


২ । আমার গহীন জলের নদী  
আমি তোমার জলে রইলাম ভেসে জনম অবদী

  • কাজী নজরুল ইসলাম 


৩ । ও নদী রে  
আমি বড় আশায় ঘর বাধিলাম রে
নদী গো তোর চরে
ওরে আমার সেই ঘরে ভাঙন লেগে গেল

  • বিজয় সরকার 


৪ । জীবন নদীর নাইয়া
   ভবের খেলা সাঙ্গ হলে গো
    নিয়ো পার করিয়া রে 
    আমার জীবন নদীর নাইয়া 


৫ ।  কবে আমার দিকে ফিরাবে নাও
ধীরে ধীরে বাইয়া রে
ওরে আমার জীবন নদীর নাইয়া রে
  • বিজয় সরকার



৬ । ওরে আমি চেয়ে দেখি সব বিদেশিরে
আমার দেশের দেশী কেহ নাই
আমি কার নৌকায় উঠিব রে ভাবি তাই 

৭ । উজান দেশের মাঝি ধন , ভাটির দেশে যাও
বাজানেরে  কইয়ো  খবর দেখা যদি পাও

  • কথাঃ  প্রচলিত

Tuesday, February 14, 2017

ও ভরা ভাদরের নদী - বিজয় সরকার

ও ভরা ভাদরের নদী জাননি তার কথা,
হে আমার ঢেউয়ের হাতে তুলে দিয়ে,
আমার বন্ধু গেলো কোথা
ও ভরা ভাদরের নদী জাননি তার কথা

এমনি সেদিন বিকেল বেলায়, নদীর তীরে ঝাউগাছ তলায়,
দক্ষিন বায়ু সখীর দোলায় দোলে গাছের পাতা,
তখন আকাশের গায়ে আলপনা দেয়, কোন দেবদুহিতা
ও ভরা ভাদরের নদী জাননি তার কথা

আমি সেদিন আপন মনে,
করি মধুর আলাপ বধুর সনে,
মুখোমুখি সুখাসনে সুখ দুঃখের কথা,
কেন অল্পকালে শুখাইলো আমার আশাকল্পলতা
ও ভরা ভাদরের নদী জাননি তার কথা

ঢেউয়ের নাচন দুলে দুলে, ভরা নদীর কুলে কুলে,
আমি কাঁদি ফুলে ফুলে; ফুলের ভ্রমর যথা,
তোমার পূর্ণ বক্ষে বুঝবে না মোর, শূণ্য বক্ষের ব্যথা,
ও ভরা ভাদরের নদী, জাননি তার কথা

ভাঁঙা গড়ার নিত্য খেলায়; বিপুলও পুলকের মেলায়,
হাসি কান্না বন্যা মেশায় নিথর নিরবতায়,
পাগল 'বিজয়' বলে এ কোন খেলা; খেলছে বিধাতা,
ও ভরা ভাদরের নদী, জাননি তার কথা

আমার ঢেউয়ের হাতে তুলে দিয়ে
আমার বন্ধু গেল কোথা
ও ভরা ভাদরের নদী, জাননি তার কথা

Sunday, February 12, 2017

বিয়াইন

''হলুদ বরন বিয়াইন আমার
আলতা বরণ পাও
বিয়াইন আমায় ডাইকা কয়
বিয়াই পান খাইয়া যাও ''

Sunday, February 5, 2017

প্রথম যৌবনের কালে না হইল মোর বিয়া - ভাওয়াইয়া গান

প্রথম  যৌবনের কালে না  হইল  মোর বিয়া
আর কতকাল রহিম ঘরে একাকিনী হয়া
রে বিধি নিদয়া
হাইল  পইল মোর সোনার  যৌবন মলেয়ার ঝরে
মা ও বাপ মোর হইল বাদী না দিল পরের ঘরে
রে বিধি নিদয়া
বাপকে না কও সরমে মুই মাত্তক না কও লাজে
ধিকি ধিকি তুষের আঘুন জ্বলছে দেহার মাঝে
রে বিধি নিদয়া ।

উজান দেশের মাঝি ভাই ধন - ভাটিয়ালী গান

পোষা পাখির গান

 ‘’পোষা পাখী উড়ে যাবে সজনী একদিন ভাবি নাই মনে’’ গানটি ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি । গানকে আমি কতো ভালবাসি নিজেই জানি না । ছোটবেলায় রেডিও ছেড়ে দিয়ে গান শুনতাম আর পড়তাম । গান মনে হয় আমার বেঁচে থাকার অক্সিজেন । বিচ্ছেদ গান সে তো সব সময় আমি শুনি না  , যখন মন খারাপ থাকে তখন শুনি ।  ‘পোষ  মানা পাখি যখন অচেনা হয়ে যায়, মনকে তখন বোঝানোর কিছু  থাকে না ।  তবে হ্যাঁ , যেদিন থেকে জেনেছি , ‘আমি ছাড়া পৃথিবী চলে’ সেদিন থেকে কোন কিছুতেই আর মন খারাপ করি না  । পাখি যাবে তো কি ? যাক , ছেড়ে যখন দিয়েছি মানা করে কি লাভ ? তারপরেও পাখির জন্য মন খারাপ হলে গান শুনে মন ভালো করতে চেষ্টা করি । কিছু গান সেই পোষ মেনে উড়ে যাওয়া পাখির জন্য

১।  পোষা পাখী উড়ে যাবে সজনী একদিন ভাবি নাই মনে  - বিজয় সরকার 
 


২। ওরে আমার সোনার ময়না  পাখি রে
ও তুই কোন ফাঁকে পালায়ে গেলি
আমার দিয়ে ফাকি রে
  • বিজয় সরকার 


৩ । শিকলি  কাটা পাখি পেয়ে সইরে তারে ধরে রেখেছি ।
পাখির রূপ দেখিয়া ভুলে গিয়েছি ।
আমার ছিল কাঞ্চন পিঞ্জর  ছিল বাইশ খুঁটির ঘর ,
পাখি থাকিত তার ভিতর
-প্রফুল্লরঞ্জন

৪। সেই শিকলি কাটা পাখির খোঁজে  সজনি আমি যাবো কাননে ।
মন হলো    মোর উতলা  আকুলরে  সেই পাখিটার কারনে ।
 - প্রফুল্লরঞ্জন

৫।  ক্ষ্যাপা তোর তোর সোনার খাঁচায় ময়না পাখি
কোনদিন যেন পালিয়ে যায় ।
তুই ওই পাখীরে বোল  ধরায়ে
মন  বেড়ি দিলিরে পায় ।
    - প্রফুল্লরঞ্জন


৬। আমার সোনার ময়না পাখিরে
ও তুই উড়ু উড়ু করিস কেন এতো সুখে থাকিরে ।
    - প্রফুল্লরঞ্জন

৭। আমার পোষ মানা সেই শ্যামা পাখি
সইরে সে যে শিকলি  কেটেছে ।
  • - প্রফুল্লরঞ্জন

৮। প্রেমের আবেশে ভুলে সই
বড় আশা সুখে পুষেছিলাম  মায়াবি এক পাখি
শিকল কেটে উড়ে গেছে দিয়ে আমায় ফাকি ।
- প্রফুল্লরঞ্জন

৯।  শিকলি কেটে গেলি পাখি এলি  না খাঁচায় ।
বাটি ভরে খাবার দিব রে পাখি , ফিরে আয় ফিরে আয় রে ।
পরানের সেই দরদ ভুলে, গেলি কোন ফাঁকে দরজা খুলে ,
আমার শিখানো  বোল গেলি ভুলে পড়ে কার মায়ায় ।
    -বিজয় সরকার ।  



(এই পোস্টটির জন্য আমি   'সুরঞ্জন রায় , সহকারী অধ্যাপক ,  শহীদ আব্দুস সালাম ডিগ্রী কলেজ , কালিয়া নড়াইল'
এর নিকট আন্তরিক কৃতজ্ঞতা  স্বীকার করছি । )



Saturday, February 4, 2017

আমার গহীন জলের নদী -নজরুল গীতি

আমার        গহীন জলের নদী
আমি          তোমার জলে ভেসে রইলাম জনম অবধি।।
ও ভাই        তোমার বানে ভেসে গেল আমার বাঁধা ঘর
আমি          চরে এসে বস্‌লাম রে ভাই ভাসালে সে চর।
এখন          সব হারিয়ে তোমার জলে রে আমি ভাসি নিরবধি।।
                ঘর ভাঙিলে ঘর পাব ভাই ভাঙ্‌লে কেন মন
ও ভাই        হারালে আর পাওয়া না যায় মনেরি রতন।
ও ভাই        জোয়ারে মন ফেরে না আর রে ও সে ভাটিতে হারায় যদি।।
তুমি           যখন ভাঙ রে নদী (ভাঙ যখন কূল রে নদী) ভাঙ একই ধার
আর           মন যখন ভাঙ রে নদী দুই কূল ভাঙ তার
ও ভাই        চর পড়ে না মনের কূলে রে
ও সে         একবার সে ভাঙে যদি, ও ভাই একবার সে ভাঙে যদি।।

Sunday, January 1, 2017

দ্বিজ চণ্ডীদাস - না কর না কর ধনি এত অপমান ।

না কর না কর ধনি এত অপমান ।
তরুণী হইয়া কেনে একে দেখ আন ।।
বংশী পড়শি আমি শপথ করিয়ে ।
তোমা বিনা দিবা নিশি কিছু না জানিয়ে ।।
ফাগুবিন্দু দেখিয়া সিদুর বিন্দু কহ ।
কণ্টকে কংকনদাগ মিছাই ভাবহ ।।
এত কহি বিনোদ নাগর চলিতে চায় ঘর ।
চণ্ডীদাস কহে রাই কাঁপে থর থর ।।

Saturday, December 31, 2016

দ্বিজ চণ্ডীদাস- সই কেমনে ধরিব হিয়া ।

সই কেমনে ধরিব হিয়া ।
আমার বঁধুয়া, আন বাড়ি যায়,
আমার আঙিনা দিয়া ।।
সে বঁধু কালিয়া, না চায় ফিরিয়া,
এমতি করিল কে ।
আমার অন্তর, যেমন করিছে,
তেমতি হউক সে।।
যাহার লাগিয়া, সব তেয়াগিনু,
লোকে অপযশ কয়।
সেই গুণ নিধি, ছাড়িয়া পিরীতি,
আর জানি কার হয় ।
আপনা আপনি, মন বুঝাইতে,
পরতীত নাহি হয়।
পরের পরাণ, হরণ করিলে,
কাহার পরাণে সয় ।।
যুবতী হইয়া, শ্যাম ভাঙাইয়া,
এমতি করিল কে ।
আমার পরাণ, যে মতি করিছে,
সে মতি হউক সে ।।
কহে চণ্ডীদাস, করহ বিশ্বাস,
যে শুনি উত্তম মুখে।
কেবা কোথা ভাল, আছয়ে সুন্দরী,
দিয়া পর মনে দুখে।।

Friday, December 30, 2016

কেন বা কানুর সনে পিরীতি করিনু ।

কেন বা কানুর সনে পিরীতি  করিনু ।
না ঘুচে দারুন নেহা ঝুরিয়া মরিনু ।।
আর জ্বালা সইতে নারি কত উঠে তাপ ।
বচন নিঃসৃত নহে বুকে খেলে সাপ ।।
জন্ম হইতে কুল গেল ধর্ম গেল দূরে ।
নিশি দিশি প্রাণ মোর কানু গুন ঝুরে ।।
নিষেধিলে  নাহি মানে ধরম বিচার ।
বুঝিনু পীরিতের হয় স্বতন্ত্র আচার ।।
করমের দোষ এ জনমে কিবা করে ।
কহে বড়ু চণ্ডীদাস  বাশুলীর বরে ।।

এক কাল হইল মোর নয়লি যৌবন ।

এক কাল হইল মোর নয়লি যৌবন ।
আর কাল হইল মোরে বাস বৃন্দাবন ।।
আর কাল হইল মোর কদম্বের তল ।
আর কাল হইল মোর যমুনার জল ।।
আর কাল হইল মোর রতন ভূষণ ।
আর কাল হইল মোর গিরিগোবর্ধন ।।
এত কাল সবে আমি বঞ্চি  একাকিনী ।
এমন জনেক নাই শুনয়ে  কাহিনী ।।
দ্বিজ চণ্ডীদাস   কহে না কহ এমন ।
কর কোন দোষ নাই সব এক জন ।।  

এ দেশে না রব সই দূর দেশে যাবো ।

এ দেশে না রব সই দূর দেশে যাবো ।
এ পাপ পিরীতির কথা শুনিতে না পাব ।।
না দেখিব নয়নে পিরীতি করে যে ।
এমতি বিষম চিতা জ্বালি দিবে সে ।।
পিরীতি আখর তিন না দেখি নয়ানে ।
যে কহে তাহার আর না দেখি বয়ানে ।।
পিরীতি বিষম দায়ে ঠেকিয়াছি আমি ।
চণ্ডীদাস কহে রামি ইহার গুরু তুমি ।।  

এ দেশে বসতি নৈল যাব কোন দেশে ।

এ দেশে বসতি নৈল যাব কোন দেশে ।
যার লাগি প্রাণ কাঁদে তার পাব কিসে ।।
বল না  উপায় সই বল না উপায় ।
জনম অবধি দুখ  রহল হিয়ায় ।।
তিতা কৈল  দেহ মোর ননদী বচনে ।
কত না সহিব জ্বালা এ পাপ প্রানে ।।
বিষ খায়া  দেহ যাবে রব রবে দেশে ।
বাশুলী আদেশে কহে চণ্ডীদাসে ।।

এক জ্বালা গুরুজন আর জ্বালা কানু ।

এক জ্বালা গুরুজন আর জ্বালা কানু ।
জ্বালাতে জ্বলিল দে সারা হইল তনু ।।
কোথায় যাইব সই কি হবে উপায় ।
গরল সমান লাগে বচন হিয়ায় ।।
কাহারে কহিব কেবা যাবে  পরতীত ।
মরণ অধিক হইল কানুর পিরীত ।।
জারিলেক তনু মন কি করে ঔষধে ।
জগত ভরিল কালা কানু পরিবাদে ।।
লোকমাঝে ঠাই নাই অপযশ দেশে ।
বাশুলী  আদেশে কহে দ্বিজ চণ্ডীদাসে ।।

Thursday, December 29, 2016

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুনে মন ভোর ।

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুনে মন ভোর ।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর ।।
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে ।
পরান পিরীতি লাগি থির নাহি বান্দে ।।
সই কি আর বলিব ।
যে পণ কর‍্যাছি মনে সেই সে করিব ।।
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা ।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা ।।
হাসিতে হসিয়া পড়ে কত মধুধার ।
লহু লহু হাসে বন্ধু পিরীতির সার ।।
গুরু গরবিত মাঝে রহি সখি সঙ্গে ।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম পরসঙ্গে ।।
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার ।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার ।।
ঘরের যতেক সভে করে কানাকানি ।
জ্ঞান কহে লাজঘরে ভজাইলাম আগুনি ।।

Tuesday, December 27, 2016

সুখ বলে, সারি রে তোর রাঁধার খবর বল

সুখ বলে, সারি রে তোর রাঁধার খবর বল
ছল করে সে কখন আনতে যাবে জল ।
সারি বলে, ওরে সুখ প্রশ্ন বলে তোর
যার লাগি রাই চুরি করে সেই সে বলে চোর ।
জানি ওরে তোর রাঁধা যে দিনকে করে রাত
চোরের উপর গোসা করে মাটিতে খায় ভাত ।
ওরে মাটিতে খায় ভাত
যজ্ঞেশ্বরী হল কুপকাত ।
নিলাজ নিঠুর কৃষ্ণ নাগর চালাক সুচতুর
আমার রাইকে করে কলঙ্কিনী রস সাগরে দেয় ডুব ।
খবরদার শ্যামকে আমার দিসনে রে দোষ খালি
মনে রাখিস এক হাতে বাজে না লো তালি ।
জেনে রাখো কেষ্ট যে তোর ভিমরুলেরই হুল
রাই কমলের মধু খেয়ে ভাঙল রাইয়ের কুল ।
এ কথাতো সবাই জানে হয়লো মধু ফুলে কেন
কেন হয়লো মধু ফুলে ?
ও রাই ঘোমটা দিয়ে নাচবে খ্যামটা
আবার জাঁতও যাবে ছুঁলে ।
সবাই জানে কেমন রে তোর শ্যামের ভালোবাসা
পিরীতি নয় পদ্মপাতা ও যে ব্যাঙের বাসা ।
বর্ষাকালে ব্যাঙ ডাকিলেই রাঁধার পোয়া বারো
চলতি পথে নূপুর খানি যায়না  কানে
কারো
সারি বলে প্রেমের কথা তুলিস রে তুই যদি
মনে রাখিস পুরুষেরই প্রেম যে মজা নদী ।
সুখ বলে মজা নদীর ঐ তো মজা হায়
ঝাপ দিয়ে যে তোর রাধিকার জীবন বেঁচে যায় ।