Showing posts with label বৈষ্ণব পদাবলী. Show all posts
Showing posts with label বৈষ্ণব পদাবলী. Show all posts

Saturday, April 28, 2018

জ্বালার উপর জ্বালা সই
জ্বালার উপর জ্বালা।
জলকে যাই পথ না পাই
বসন টানে কালা।।
সরম কর‍্যা ভরম কর‍্যা
বসন দিলাম মাথে।
সকল সখীর মাঝে কালা
ধরে আমার হাতে।।
রস করিতে জানে যদি
তবে সে মনের সুখ।
গোপত কথা বেকত করে
এই সে বড় দুখ।।
চলমল্যাকে চতুর বলি
হেটমুড়্যাকে জপু।
রস জানিলে রসিক বলি
নৈলে বলি ভেপু।।
লোচন বলে আলো দিদি
ইহা বললি কেনে।
কালার সমান রসিক নাই
এ তিন ভুবনে।।
(পদকর্তা লোচন দাস, বৈষ্ণব পদাবলী, শ্রীহরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, পৃষ্ঠা ৪৮৩, সাহিত্য সংসদ, ২০১৫)

Wednesday, August 30, 2017

আমি কৃষ্ণ তুমি রাঁধা , কি করবে তোমার দাদা?

রাঁধা আসলে কে ছিল?  এত কাব্য কবিতা পদাবলী এই সুন্দরী কে নিয়ে!  দুনিয়ায় যেন রাঁধা  ছাড়া রূপ নাই!  যেমন নাই কানু ছাড়া গান।  কে ছিল এই সর্বাঙ্গসুন্দরী?  কৈ পাব তারে?  দেখে একবার মন জুড়াইতাম।  নাকি রূপ উন্মত্তের কাছে তার প্রিয়তমাই রাঁধা?  আর মুগ্ধা অভিসারিণীরর কাছে তার নাগরই চিকন কালা।  হতেও পারে কারন  লৌকিকভাবে বর্ননা করলে ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে কিন্তু একটা common   নামে প্রকাশ করলে দোষও হয় না অথচ যা খুশি বলা যায়,  প্রশংসা করা যায়।
তাইতো প্রেমিক প্রেমিকা  পরস্পরের কাছে "আমি কৃষ্ণ  তুমি রাঁধা।"
অভিসারক অতি চালাক,  ধরা পড়ার ভয়ে সে ভিন্নরূপ ধারন করে সংকেত করে আর অভিসারিকা মিলনের আশায় কখনো কলসি নিয়ে কখনো  নিশারাতে সবাই কে ফাঁকি দিয়ে ঘরের বাহির হয়।
নেশা যখন লেগেছে ভ্রমর ফুলে বসবেই,  সমাজ তা কখনো ঠেকাতে পারবে না,  পারেও নি।  তাইতো রাঁধা রূপে নাগরী আর কালা রূপে নাগর বিরাজ করে।
তাইতো বলি, রাঁধা রূপী নেশা,  তুমি চক্ষে এসে অন্ধ হই বক্ষে এস নিন্দে হোক,  আকুল হৃদয় ঠান্ডা হোক।  

Sunday, January 1, 2017

দ্বিজ চণ্ডীদাস - না কর না কর ধনি এত অপমান ।

না কর না কর ধনি এত অপমান ।
তরুণী হইয়া কেনে একে দেখ আন ।।
বংশী পড়শি আমি শপথ করিয়ে ।
তোমা বিনা দিবা নিশি কিছু না জানিয়ে ।।
ফাগুবিন্দু দেখিয়া সিদুর বিন্দু কহ ।
কণ্টকে কংকনদাগ মিছাই ভাবহ ।।
এত কহি বিনোদ নাগর চলিতে চায় ঘর ।
চণ্ডীদাস কহে রাই কাঁপে থর থর ।।

Saturday, December 31, 2016

দ্বিজ চণ্ডীদাস- সই কেমনে ধরিব হিয়া ।

সই কেমনে ধরিব হিয়া ।
আমার বঁধুয়া, আন বাড়ি যায়,
আমার আঙিনা দিয়া ।।
সে বঁধু কালিয়া, না চায় ফিরিয়া,
এমতি করিল কে ।
আমার অন্তর, যেমন করিছে,
তেমতি হউক সে।।
যাহার লাগিয়া, সব তেয়াগিনু,
লোকে অপযশ কয়।
সেই গুণ নিধি, ছাড়িয়া পিরীতি,
আর জানি কার হয় ।
আপনা আপনি, মন বুঝাইতে,
পরতীত নাহি হয়।
পরের পরাণ, হরণ করিলে,
কাহার পরাণে সয় ।।
যুবতী হইয়া, শ্যাম ভাঙাইয়া,
এমতি করিল কে ।
আমার পরাণ, যে মতি করিছে,
সে মতি হউক সে ।।
কহে চণ্ডীদাস, করহ বিশ্বাস,
যে শুনি উত্তম মুখে।
কেবা কোথা ভাল, আছয়ে সুন্দরী,
দিয়া পর মনে দুখে।।

Friday, December 30, 2016

কেন বা কানুর সনে পিরীতি করিনু ।

কেন বা কানুর সনে পিরীতি  করিনু ।
না ঘুচে দারুন নেহা ঝুরিয়া মরিনু ।।
আর জ্বালা সইতে নারি কত উঠে তাপ ।
বচন নিঃসৃত নহে বুকে খেলে সাপ ।।
জন্ম হইতে কুল গেল ধর্ম গেল দূরে ।
নিশি দিশি প্রাণ মোর কানু গুন ঝুরে ।।
নিষেধিলে  নাহি মানে ধরম বিচার ।
বুঝিনু পীরিতের হয় স্বতন্ত্র আচার ।।
করমের দোষ এ জনমে কিবা করে ।
কহে বড়ু চণ্ডীদাস  বাশুলীর বরে ।।

এক কাল হইল মোর নয়লি যৌবন ।

এক কাল হইল মোর নয়লি যৌবন ।
আর কাল হইল মোরে বাস বৃন্দাবন ।।
আর কাল হইল মোর কদম্বের তল ।
আর কাল হইল মোর যমুনার জল ।।
আর কাল হইল মোর রতন ভূষণ ।
আর কাল হইল মোর গিরিগোবর্ধন ।।
এত কাল সবে আমি বঞ্চি  একাকিনী ।
এমন জনেক নাই শুনয়ে  কাহিনী ।।
দ্বিজ চণ্ডীদাস   কহে না কহ এমন ।
কর কোন দোষ নাই সব এক জন ।।  

এ দেশে না রব সই দূর দেশে যাবো ।

এ দেশে না রব সই দূর দেশে যাবো ।
এ পাপ পিরীতির কথা শুনিতে না পাব ।।
না দেখিব নয়নে পিরীতি করে যে ।
এমতি বিষম চিতা জ্বালি দিবে সে ।।
পিরীতি আখর তিন না দেখি নয়ানে ।
যে কহে তাহার আর না দেখি বয়ানে ।।
পিরীতি বিষম দায়ে ঠেকিয়াছি আমি ।
চণ্ডীদাস কহে রামি ইহার গুরু তুমি ।।  

এ দেশে বসতি নৈল যাব কোন দেশে ।

এ দেশে বসতি নৈল যাব কোন দেশে ।
যার লাগি প্রাণ কাঁদে তার পাব কিসে ।।
বল না  উপায় সই বল না উপায় ।
জনম অবধি দুখ  রহল হিয়ায় ।।
তিতা কৈল  দেহ মোর ননদী বচনে ।
কত না সহিব জ্বালা এ পাপ প্রানে ।।
বিষ খায়া  দেহ যাবে রব রবে দেশে ।
বাশুলী আদেশে কহে চণ্ডীদাসে ।।

এক জ্বালা গুরুজন আর জ্বালা কানু ।

এক জ্বালা গুরুজন আর জ্বালা কানু ।
জ্বালাতে জ্বলিল দে সারা হইল তনু ।।
কোথায় যাইব সই কি হবে উপায় ।
গরল সমান লাগে বচন হিয়ায় ।।
কাহারে কহিব কেবা যাবে  পরতীত ।
মরণ অধিক হইল কানুর পিরীত ।।
জারিলেক তনু মন কি করে ঔষধে ।
জগত ভরিল কালা কানু পরিবাদে ।।
লোকমাঝে ঠাই নাই অপযশ দেশে ।
বাশুলী  আদেশে কহে দ্বিজ চণ্ডীদাসে ।।

Thursday, December 29, 2016

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুনে মন ভোর ।

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুনে মন ভোর ।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর ।।
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে ।
পরান পিরীতি লাগি থির নাহি বান্দে ।।
সই কি আর বলিব ।
যে পণ কর‍্যাছি মনে সেই সে করিব ।।
দেখিতে যে সুখ উঠে কি বলিব তা ।
দরশ পরশ লাগি আউলাইছে গা ।।
হাসিতে হসিয়া পড়ে কত মধুধার ।
লহু লহু হাসে বন্ধু পিরীতির সার ।।
গুরু গরবিত মাঝে রহি সখি সঙ্গে ।
পুলকে পূরয়ে তনু শ্যাম পরসঙ্গে ।।
পুলক ঢাকিতে করি কত পরকার ।
নয়নের ধারা মোর বহে অনিবার ।।
ঘরের যতেক সভে করে কানাকানি ।
জ্ঞান কহে লাজঘরে ভজাইলাম আগুনি ।।

Tuesday, December 27, 2016

সুখ বলে, সারি রে তোর রাঁধার খবর বল

সুখ বলে, সারি রে তোর রাঁধার খবর বল
ছল করে সে কখন আনতে যাবে জল ।
সারি বলে, ওরে সুখ প্রশ্ন বলে তোর
যার লাগি রাই চুরি করে সেই সে বলে চোর ।
জানি ওরে তোর রাঁধা যে দিনকে করে রাত
চোরের উপর গোসা করে মাটিতে খায় ভাত ।
ওরে মাটিতে খায় ভাত
যজ্ঞেশ্বরী হল কুপকাত ।
নিলাজ নিঠুর কৃষ্ণ নাগর চালাক সুচতুর
আমার রাইকে করে কলঙ্কিনী রস সাগরে দেয় ডুব ।
খবরদার শ্যামকে আমার দিসনে রে দোষ খালি
মনে রাখিস এক হাতে বাজে না লো তালি ।
জেনে রাখো কেষ্ট যে তোর ভিমরুলেরই হুল
রাই কমলের মধু খেয়ে ভাঙল রাইয়ের কুল ।
এ কথাতো সবাই জানে হয়লো মধু ফুলে কেন
কেন হয়লো মধু ফুলে ?
ও রাই ঘোমটা দিয়ে নাচবে খ্যামটা
আবার জাঁতও যাবে ছুঁলে ।
সবাই জানে কেমন রে তোর শ্যামের ভালোবাসা
পিরীতি নয় পদ্মপাতা ও যে ব্যাঙের বাসা ।
বর্ষাকালে ব্যাঙ ডাকিলেই রাঁধার পোয়া বারো
চলতি পথে নূপুর খানি যায়না  কানে
কারো
সারি বলে প্রেমের কথা তুলিস রে তুই যদি
মনে রাখিস পুরুষেরই প্রেম যে মজা নদী ।
সুখ বলে মজা নদীর ঐ তো মজা হায়
ঝাপ দিয়ে যে তোর রাধিকার জীবন বেঁচে যায় ।

Friday, December 23, 2016

চণ্ডীদাস - দেখিলে কলঙ্কীর মুখ কলঙ্ক হইবে ।


দেখিলে কলঙ্কীর মুখ কলঙ্ক হইবে ।
এ জনার মুখ আর দেখিতে না হবে ।।
ফিরি ঘরে যাও নিজ ধর্ম লইয়া ।
দেশে দেশে ভ্রমিব যোগিনী হইয়া ।।
কাল মানিকের মালা গাঁথি নিব গলে ।
কানু গুন যশ কানে পরিব কুণ্ডলে ।।
কানু অনুরাগ রাঙ্গা বসন পরিব ।
কানুর কলঙ্ক ছাই অঙ্গেতে লেপিব ।।
চণ্ডীদাস কহে কেন হইলা উদাস ।
মরণের সাথী যেই সে কি ছাড়ে পাশ ।।

Thursday, December 22, 2016

বড়ু চণ্ডীদাসঃ এই ভয় উঠে মনে এই ভয় উঠে ।

এই ভয় উঠে মনে এই ভয় উঠে ।
না জানি কানুর প্রেম তিলে জানি ছুটে ।।
গড়ন ভাঙ্গিতে সই আছে কত খল ।
ভাঙ্গিয়া গড়িতে পারে সে বড় বিরল ।।
যথা তথা যাই আমি যত দুঃখ পাই ।
চাঁদমুখে হাসি হেরি তিলেক জুড়াই ।।
সে হেন বধূরে মোর যে জন ভাঙ্গায় ।
হাম নারী অবলায় বধ লাগে তায় ।।
চণ্ডীদাস কহে রাই ভাবিছ অনেক ।
তোমার পিরীতি বিনে সে জিয়ে তিলেক ।।