Showing posts with label গল্প. Show all posts
Showing posts with label গল্প. Show all posts

Sunday, June 17, 2018

প্রেমিক VS স্বামী



আমার মোজায় একটু গন্ধ হলেও তুমি সহ্য করতে পারতে না।  এখন তোমার হাজব্যান্ড পাঁচ মিনিটে তিনটি সিগারেট খায়; সেটি কিভাবে সহ্য কর?
কোন কথা নাই,  বুঝলাম ফোনের ওপাশে কাঁদছে। কাঁদুক, একটা বর্বর আনন্দ লাগে।  

আসলে প্রেমিকের অনেক দোষ থাকে। ওদিকে সদ্য পরিচয় হওয়া মানুষকে বেলের সরবত কিংবা ধোয়া তুলসির পাতাই মনে হয়। প্রেমিকের থাকে মনের মত গড়ে নেওয়ার আনন্দ; অনেকটা সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে যাত্রা শুরু করার মত আর স্বামীর থাকে অন্য বাসনা;  বার ঘাটের জল খেয়ে, সবাই ব্যস্ত হয় যাওয়ার নিঃসঙ্গতা ঘোচানোর জন্য একজন সেবাদাসী খোঁজে সে।  স্বামীও হয়তো তার প্রেমিকা হারিয়েছে তাই অনেক কিছু ছাড় দেয় সে। আর এটাই শিক্ষিত কিছু মেয়ের কাছে স্বাধীনতা মনে হয়। প্রেমিকের ছোট ছোট বিধিনিষেধ তার কাছে জঞ্জাল, আপদ মনে হত তার;  তাই এ বিচ্ছেদ।  স্বামী ছাড় দিতে দিতে তার গোয়াটাও ছাড় দেয় অন্যদিকে প্রেমিক কিছুই ছাড় দেয় না, তার লক্ষ্য মাটির প্রতিমার মত প্রেমিকাকে নিজ হাতে গড়ে নেওয়া কিন্তু তা অনেক ক্ষেত্রে হয়ে ওঠে না।  ফলফল স্বেচ্ছাচারী প্রেমিকের হাত হতে মুক্ত হয়ে অচেনা মানুষের হাত ধরে প্রেমিকা। তবে পরে পস্তায়।  ফোনের ওপাশে নিঃশব্দ কান্নায় বান বয়ে যায় আর প্রেমিকের দগদগে ঘাঁ ততদিনে সেরে ওঠেছে। ও কান্নায় কিছুই হয় না।  কেউ হয়তো তাকে বুঝিয়েছে, দ্যাখ,  যে প্রেমিকা এতো দিনের সম্পর্ক ভেঙ্গে গেছে তার জন্য কিসের মায়া?  কত সময়ের বিনিয়োগ, কত আবেগের স্রোতধারা, কত অর্থের খেলা হয়েছে, সবকিছুর যোগফল যে শূন্য করে চলে গেছে তার প্রতি কি আর মায়া? তুই আবার প্রেম কর, দেখবি নতুনের প্রতি সেই একই আবেগ আসবে। হ্যা তাইই হয়।
নতুনের প্রতি আবার মুকুলিত হয় তার ফাগুন, সে দেখে তাইতো অনুভুতি সব এক তো!
এভাবে পুকুরের জলের স্বাদ ভুলতে সে নেয় নদীর স্বাদ, পরে আর পুকুর ভালোলাগে না।  তবে হ্যা নদী খুজে পাওয়ার আগে যে বিরহটা থাকে সেটা হয় স্বর্ণপ্রসবকারী; যত কবিতা, ছন্দ, দুঃখের সৃষ্টিশীলতা তখন বের হয়ে আসে। যা সুখে থাকতে কখনো আসেনি, আসে না, আসবে না। তাই ধন্যবাদ সব ফিরিয়ে দেওয়াকে, সব বিরহকে; ওটা মুক্তোর মতো মূল্যবান সব সৃষ্টিশীলতার জনক।  

Wednesday, March 28, 2018

আমিও অটল তুমিও অটল
তাইতো মাঝে ধরলো ফাটল
একপাক্ষিক সম্পর্কগুলো মধুর ও পবিত্র হয়। অনেকটা সমুদ্রমন্থনে উদ্ভুত বিষ মহাদেবকে দিয়ে অমৃত পান করার মতো। এতে কোন চাওয়া পাওনা নেই, নেই মন কশাকশি, শুধু অদ্ভুত এক ধরনের ভালোলাগা গুনোত্তর ধারায় জ্যামিতিক ভাবে কেবল বাড়তেই থাকে, বাড়তেই থাকে। অন্যদিকে উভয়পাক্ষিক ভালোবাসাগুলো যেন চন্দ্র তিথি, কখনো শুক্লপক্ষ কখনো কৃষ্ণপক্ষ। তারপরও বেঁচে থাকুক ভালো লাগাগুলো, হাসিতে থাকুক প্রিয়মুখ।

২৬শে মার্চ

হটাত করে চোখ গেলো আকাশে, গাছের উপরে কালো কাক উড়ছে। এই মাঝ রাতে কাকের দল কেন? গাঁ শিউরে উঠল! চারপাশে কেউ নেই! আমি একা! ভয় আমি পাই না কিন্তু এই একটা দিনে ভয় পাই; আত্মাগুলো ফিরে এলো কি? কালো বিড়াল! Oh my God! সত্যি ভয় পাচ্ছি! দে দৌড়! এক নিশ্বাসে জঙ্গলের মতো জায়গাটা থেকে রুমে। 
একটু আগে গান শুনে এলাম "এক নদী রক্তের বিনিময়ে........" সত্যি আজ আত্মাগুলো যদি ফিরে আসে! বিভৎস চেহারা নিয়ে! ভীতু হয়ে উঠছি কেন আমি? জানি না। এমন তো হয়নি আগে! 
হলের ভিতরের গনকবরের পাশে ক্রিকেট খেলেছি, ফোনেও কথা বলেছি কিন্তু আজ যে ২৬শে মার্চ। কালো জমাট বাঁধা রক্তের মাঝে মাঝে হয়তো সেদিন আমিও ছিলাম! শুনেছি কাক নাকি পূর্বপুরুষের প্রতীক। তাই এই কাকের দল উড়ছে শব্দ ছাড়া। কি নিঃশব্দ! ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ পর্যন্ত নেই! আয় তোরা সখা চুপিচুপি! কেউ জানবেও না। শুধু আমি আর তোরা! ২৬শে মাচ! রক্তের শোধ নে!
দূর! ফ্যানটা এমন আওয়াজ করে ঘুরছে কেন? সেদিন কি এমন ঘুরছিল? যে দিন ওরা আমাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল? কারন আমি বাঙালী! তারপর হাত বেধে উল্টো করে টেনে নিয়েছিল আমায় আর মেরেছিল খুঁচিয়ে! ভুলি নাই! মুক্ত আমি আমি হয়েছি। আমার নামের পাশে আজ লেখা "বাংলাদেশী"। আমি স্বাধীন! বুকের রক্তে কেনা আমার স্বাধীনতা।

নিঃসঙ্গ !

শহরে আসলে সবাই নিঃসঙ্গ, চাঁদটাও; তার পাশে কোন তারা নেই। তারা গোনার খেলাও নেই। ঠিক মাঝরাতে কোন তারাটা কোথায় ওঠে সবই আমার জানা ছিল। আর এখন! ভুলেই গিয়েছি কালপুরুষ, সপ্তর্ষি, লুব্ধক, অগস্ত্য, স্বাতী, চিত্রা, রোহিণী, জ্যেষ্ঠা, মিথুন, মৎসমুখ, আর্দ্রা, আধারা, অভিজিৎ, বিষ্ণুতারা, শ্রাবনা, প্রভাস, বিজয় এর জ্যামিতিক চিত্র, মাঝেরাতে যা ফুটে উঠত আকাশের কোন এক কোনে আর আমার কিশোর মন ঠিকই খুঁজে বের করত তাদের। কতই না গলা মিলিয়েছি "রাতেরও আকাশে নিশ্চুপ স্বাক্ষী দূরের ঐ ধ্রুবতারা......কতটা বেসেছি ভালো......" আজ আমার সে চাঁদ সঙ্গীহীন। একটাবার যদি এ শহরের সব বাতি নিভিয়ে দেখতে পেতাম সেই কিশোর বেলার তারা ঝিকিমিকি আকাশ, নিকষকালো অন্ধকার। গ্রামে আমার ছোট্ট উঠানে দাড়িয়ে আমি, কিশোর আমি, উপরে সে আকাশ। কিন্তু আজ সব ভাঙছে, ভাঙুক। না ভাঙলে গড়বো কি করে? এ তারা এ চাঁদই হোক না সকল স্বাক্ষী।

Tuesday, March 13, 2018

:- দাদা! আজকাল শুধু মুভিই দেখেন পড়াশোনা করেন না?
:- না রে! জোসেফ উড ক্রুচ তার "দি মর্ডান টেম্পার" গ্রন্থে কি বলেছেন জানিস? "যত বেশী জ্ঞান বাড়ে তত বেশী দুঃখও বাড়ে। জ্ঞান বাড়িয়ে তুমি দুঃখই বাড়াও।"
:- তা বুঝলাম। কিন্তু জীবন তো আর মেলোড্রামা নয়, It's a tragedy!
:- যা ব্যাটা! তোর হারেম আর ইমারতের লোভ আমাকে দেখাস নে। ফোট! মুভি দেখতে দে।
:- আসলে মুভির প্রতি আপনার প্রেম ভিক্টোরিয়ান যুগের প্রেমের মতোই অন্ধ। 
:- হ্যা। আর প্রেমের স্বাদ যে পায়নি, জীবন তার কাছে তার শ্রেষ্ঠ ঐশ্বর্য উদঘাটিত করেনি। সে হতভাগা জীবনকে পেয়েও জীবন থেকে বঞ্চিত। "প্রেম সেতো আগুনের শিখা,
অন্তরেতে চির আনির্বাণ,
অবসন্ন নয় কভু তাহা,
নহে কভু রুগ্ন, পরিম্লান।"
:- উম!
:- এখন যা ভাগ! LED পর্দায় মিয়া খলিফা অপেক্ষা করছে।
:- দাদা! "এই সব নারীই নরকস্য দ্বারী, এরাই মানুষের সর্বপ্রকার পতনের মূল।"
:- ভাগলি ?
:- -#@#$%&*
(মোতাহের হোসেন চৌধুরী শুনলে নিশ্চিত আমাদের দুটোকেই ধাওয়াতেন।)

Wednesday, February 28, 2018

পুরান ঢাকার হরিঘোষ লেনের বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথের সাথে ভজঘটানন্দ স্ট্রিটের লাস্যময়ী তরুনী মিয়া খলিফার ঢাকা গেটের সামনে হটাত দেখা। তো ঠাকুর বলিলেন, " ওহে পয়োধারী! Global Warming এর উপর আমার উপন্যাস চোখের বালি এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। তুমি যদি এই বই সম্পর্কে উইপোকাদের আড্ডাখানায় একটা পোষ্ট দাও তাহলে কিছু কাটতি হয়, হাজার হলেও নিজের টাকায় বই পাবলিশ করেছি দু এক কপি বিক্রি না হলে কিভাবে হয়!"
"যা দুষ্টু! ওসব ওয়ারমিং টোয়ারমিং এর আমি কি বুঝি। তার চেয়ে তুমি Women Rights এর উপর একখানা কড়া উপন্যাস ললিতা কিংবা ইউলিসিস লিখতে। বুঝতাম তোমার বীরত্ব।" মিয়া খলিফা উত্তর করিলেন।
একথা শুনে ঠাকুর ক্যালিগুলার জীবনচরিত লেখার সংকল্প করিয়া প্রস্তান করিলেন।
":-সবাই কেমন আছে? 
:- যোগাযোগ নাই।" 
দুজন দুজনকে চেয়ে দেখি, কেমন বদলে গেছি আমরা। তারপর আবার ভেসে যাই অথৈ সমুদ্রে মানুষের ভিড়ে

Sunday, February 4, 2018

বাংলামটর জ্যাম, গোলাপি এক সুন্দরী উঠল বাসে, সব ঢাকা শুধু চোখ দুটি বাইরে, মনে হল চন্দন বর্ণের উপর তিনটি তিনটি কালো বৃত্তচাপের ভেতর দুটি কালো বৃত্ত। বৃত্ত দুটি শুধু এদিক যায় ওদিক যায়, মাঝে মাঝে স্থির হয়ে থাকে। বসবি বস একদম আমার সামনে, তাকালেই চোখে চোখে পড়ে। এদিকে আমি ঘামতে শুরু করেছি। সুন্দরী মাঝে মাঝে পলকও ফেলে তখনই হৃদপিন্ডের সকল কপটিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। 
ফার্মগেটে এসে বাসে সিট খালি হলো, সুন্দরী লেডিস সিটে গিয়ে বসল। 
বালের এতো জ্যাম ক্যা? গাড়ি চলে না কেন? পাশের যাত্রী ফোনে কার্ড খেলতে শুরু করলেন আর আমি কানে এয়ারফোন গুজে ঘুমাতে লাগলাম।

Saturday, January 13, 2018

পায়ে চলার পথ


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
------------------------

এই তো পায়ে চলার পথ।

এসেছে বনের মধ্যে দিয়ে মাঠে, মাঠের মধ্যে দিয়ে নদীর ধারে, খেয়া-ঘাটের পাশে বটগাছ-তলায়; তার পরে ও পারের ভাঙা ঘাট থেকে বেঁকে চলে গেছে গ্রামের মধ্যে; তার পরে তিসির খেতের ধার দিয়ে, আমবাগানের ছায়া দিয়ে, পদ্মদিঘির পাড় দিয়ে, রথতলার পাশ দিয়ে, কোন্ গাঁয়ে গিয়ে পৌঁচেছে জানি নে।

এই পথে কত মানুষ কেউ বা আমার পাশ দিয়ে চলে গেছে, কেউ বা সঙ্গ নিয়েছে, কাউকে বা দূর থেকে দেখা গেল; কারো বা ঘোমটা আছে, কারো বা নেই; কেউ বা জল ভরতে চলেছে, কেউ বা জল নিয়ে ফিরে এল।

২

এখন দিন গিয়েছে, অন্ধকার হয়ে আসে।

একদিন এই পথকে মনে হয়েছিল আমারই পথ, একান্তই আমার; এখন দেখছি, কেবল একটিবার মাত্র এই পথ দিয়ে চলার হুকুম নিয়ে এসেছি, আর নয়।

নেবুতলা উজিয়ে সেই পুকুরপাড়, দ্বাদশ দেউলের ঘাট, নদীর চর, গোয়ালবাড়ি, ধানের গোলা পেরিয়ে-সেই চেনা চাউনি, চেনা কথা, চেনা মুখের মহলে আর একটিবারও ফিরে গিয়ে বলা হবে না, ‘এই-যে!’

এ পথ যে চলার পথ, ফেরার পথ নয়।

আজ ধূসর সন্ধ্যায় একবার পিছন ফিরে তাকালুম; দেখলুম, এই পথটি বহুবিস্মৃত পদচিহ্নের পদাবলী, ভৈরবীর সুরে বাঁধা।

যত কাল যত পথিক চলে গেছে তাদের জীবনের সমস্ত কথাকেই এই পথ আপনার একটিমাত্র ধূলিরেখায় সংক্ষিপ্ত করে এঁকেছে; সেই একটি রেখা চলেছে সূর্যোদয়ের দিক থেকে সূর্যাস্তের দিকে, এক সোনার সিংহদ্বার থেকে আর-এক সোনার সিংহদ্বারে।

৩

‘ওগো পায়ে চলার পথ, অনেক কালের অনেক কথাকে তোমার ধূলিবন্ধনে বেঁধে নীরব করে রেখো না। আমি তোমার ধুলোয় কান পেতে আছি, আমাকে কানে-কানে বলো।’

পথ নিশীথের কালো পর্দার তর্জনী বাড়িয়ে চুপ ক’রে থাকে।

‘ওগো পায়ে চলার পথ, এত পথিকের এত ভাবনা, এত ইচ্ছা, সে-সব গেল কোথায়!’

বোবা পথ কথা কয় না। কেবল সূর্যোদয়ের দিক থেকে সূর্যাস্ত অবধি ইশারা মেলে রাখে।

‘ওগো পায়ে চলার পথ, তোমার বুকের উপর যে-সমস্ত চরণপাত একদিন পুষ্পবৃষ্টির মতো পড়েছিল আজ তারা কি কোথাও নেই?’

পথ কি নিজের শেষকে জানে, যেখানে লুপ্ত ফুল আর স্তব্ধ গান পৌঁছল, যেখানে তারার আলোয় অনির্বাণ বেদনার দেয়ালি-উৎসব।


Monday, January 1, 2018

- I love you. - Thank You, Vaiya !

-  I love you.
- Thank you vaiya.
কেমন লাগে বলুন তো?  ইহাই ছিল আমার প্রেমের আবেদনের প্রতিউত্তর।  সে রূপসী, সর্বাঙ্গসুন্দরী মানসী, প্রাণোচ্ছল হাসিধারিনী।  তাহার  স্বর্ণকান্তী দেহছটা,  গ্রীষ্মের সূর্যের মত রূপদ্যুতি,  তাই এতো দেমাগ?

জানিতে চাও সে কে?  সে হতে পারে বৈষ্ণব পদাবলীর রাধিকা, নীল নদের সর্পখ্যাত ক্লিওপেট্রা কিংবা মেনিলাউসের  এর স্ত্রী হেলেন কিংবা ইতালিয়ান ফিল্মের মনিকা বেলুচ্চি।  তাহার মুক্তাজ্যোতি দন্তরাশী,  নৃত্যছন্দ,  পদ্মনাল বাহুদ্বয়,  রক্তজবা লিপিস্টিক,  মস্তিষ্কের নির্ঘুম হরমোনকে প্রভাবিত করে জাগিয়ে রাখলো আজ রাত।

তাহার জন্য হতে পারি রানী ইসাবেলার নৌ সেনাপতি ফার্নাদেস কার্তেজ কিংবা ভাস্কো -দা- গামা কিংবা কবি জন ডাইন,  তারপর বলিতে পারি " For God sake hold your tounge and let me love. "

 যুবক তুমি করিয়াছ ভুল,  DNA এর ডাবল হেলিক্স গঠন পড়িয়াছ,  ব্যাবলিয়ন অ্যালজেবরা আর জটিল অ্যালগরিদম বুঝিয়াছ,  দর্শনের শূন্যবাদ থেকে নৈরাশ্যবাদ গিলিয়াছ,  অপটিক্যাল ফাইবার থেকে টুইস্টেট ক্যাবল দিয়ে তথ্য পাচার করিয়াছ কিন্তু মেয়ে মানুষের মনে ঢুকিবার কৌশল কিংবা সিস্টেম Crack করিতে শিখো নাই।  তাইতো তাহার ভাইয়া ডাক মহাভারতের  অভিমন্যু বধের ন্যায়  চক্রব্যূহ রচনা করিয়া সপ্তরথী সদৃশ্য তীর নিক্ষেপ  করিতেছে।
এ প্রেম যন্ত্রনার প্রতিষেধক কি ডেভিডসনের "মেডিসিন" এ লেখা আছে ? নিউরোলজি কি বলেছে এ বিষয়ে?

Shelly,  Keats,  D H Lawrence,  বিদ্যাপতি,  চন্ডীদাস,  মুকুন্দদাস বাঁচিয়া থাকিলে আজ তাহাকে লইয়া লেখা হইত  verse কি verse,   পংক্তি কি পংক্তি।  ননজুডিশিয়াল স্টাম্পে লিখিয়া দিতে পারি কার্ল মার্কস নেশাকে  দেখিলে বুর্জোয়া,  প্রলিতেরিয়েত শ্রেনী বিভাগের সাথে নেশা প্রেমিক সম্প্রদায়ও  অন্তর্ভুক্ত করিতেন।
যদি কোন প্রেমবীক্ষন যন্ত্র থাকিত বা প্রেমমিটার  বলিয়া কিছু থাকিত তাতে মাপিয়া দেখাইতাম অনুভুতির মাত্রা কত।   

Saturday, October 14, 2017

রুমের সামনে ব্রা !

ঘুম থেকে উঠে দেখি রুমের সামনে কে যেন ৭২ ফ্রন্টের ব্রা ঝুলিয়ে রেখে গেছে। কোন শালা রে ? ৩৬ ফ্রন্টের হলেও একটা কথা থাকে, ডাইরেক ৭২ ফ্রন্ট ! 
ওয়াশরুম পর্যন্ত যেতে যেতে দেখি অনান্য রুমের সামনেও ঝুলছে। পরে পর্যবেক্ষণ আর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বুঝলাম এগুলো টিনারই ব্রা। কারন টিনার সাথে আমার গোপন অভিসার ঘটে চারবছর পর পর। জার্মানি যখন সাত সাত বার ব্রাজিলের ব্রা খুলে নিয়ে গেল কই তখন তো প্রতিবাদ করি নাই বরং দুই হালি বার কেন খুলে নাই ভেবে দুঃখ পেয়েছিলাম। দিত আর্জেন্টিনা ওরূপে টিনার ব্রার দিকে হাত, হাত কেটে নিয়ে আসতাম না। যাইহোক আবার আসিতেছে ২০১৮ সাল তখন রুমের সামনের ব্রাগুলি ব্রাজিল আর টিনা গয়নাগাটি পরে আর্জেন্টিনায় পরিনত হবে; সে পর্যন্ত ওরা ঝুলিতেই থাকুক।

Saturday, January 21, 2017

দুঃস্বপ্ন


রাজীব ঢালী 
দুঃস্বপ্নটা দেখেই ঘুম ভাঙল ধনঞ্জয়ের । সত্যি বিয়ের পরে মানুষ বদলে যায় ? যেমনটি গিয়েছিল ওর দুই মামা । ছোটমামা বিয়ের পরের দিনই ওকে থাপ্পড় মেরেছিল আর মেজমামা আর মামি মিলে করেছিল ওর ছোট জীবনের সব চেয়ে বড় অপমান । শুধু ওকে অপমান করে ক্ষান্ত হয়নি , ওর মা বাবাকেও অপমান করে ছেড়েছিল । পাড়ার ছেলেরা মিলে বিয়ের হাড়ির কিছু মিষ্টি খেয়েছিল আর তাতেই মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল । মামা মামি মিলে ওকে আর ওর মা বাবাকে যে অপমানটা কয়েছিল ধনঞ্জয় তা আজও হজম করতে পারে নি । কিন্তু বিয়ের আগে ওই ছিল মামার সবচেয়ে প্রিয় । তখন ওর আর বয়স কতো , ছয় কিংবা অথবা সাত । মেজ মামি এসেই ওর আর মামার বন্ধনটা ভেঙ্গে দিতে লেগেছিল । সফলও হয়েছে । বিয়ের পর মামা আর ওকে কোলে তুলে নেয়নি ! ব্যাথাটা ওর খুব লাগে । ওর বাবাকে মামি খুব অপমান করেছিল, বলেছিল ‘’আপনার ছেলে ওর মামা সম্পর্কে যা তা বলে , বদনাম করে ।‘’ বাবা রাগ হয়ে বাড়ির বাইরে চলে গিয়েছিল । মা কে খুব বকেছিল । আচ্ছা , ছয় কিংবা সাত বছরের একটা বাচ্চা কি বদনাম করেছিল । শুধু বলেছিল মামা সিডি আনালে মামার কোলে বসে দেখবে । এখন ও বুজতে পারে কথাটা নববধূর কোথায় লেগেছিল । আসলেই তো স্ত্রী ছাড়া স্বামীর আর কেউ প্রিয় হতে পারে এটা নববধূ মেনে নিবে কেন ? স্বামীর সাথে তার ভাগনে , বন্ধু , মা –বাবা , ভাই বোনের সম্পর্ক ভেঙ্গে দাও , স্বামী হোক তার পোষ মানা ভেড়া । মনে হয় ঠিক তেমনটাই নববধূ চেয়েছিল । এবং সে সফলও হয়েছে । তার বিয়ের আগের মামা আর পরের মামা ; যুগ যুগের পার্থক্য । অপমানটা ওর বাবার খুব বেশি লেগেছিল । আচ্ছা সাত বছরের একটা বাচ্চা কটা মিষ্টি খেতে পারে ? একটা হাড়ির সব ? পাড়ার ছেলেরা মিষ্টি খেয়েছিল আর ওকে ওরা কোলে করে নিয়ে গিয়েছিল । অথচ দোষটি হয়েছিল ওর । ও নাকি মিষ্টির হাড়ি দেখিয়ে দিয়েছিল । এর জন্য ওর পুরো পরিবারকে অপমান করা হয়েছিল যা ইচ্ছা তাই ভাবে । আসলেই নববধূর ক্ষমতা অসাধারণ । সবকিছুই পরিবর্তন করে দিতে পারে । তার বাপের বাড়ির মিষ্টি অন্য কেউ খাবে এটা সে কেন মেনে নেবে ? একটা দায়িত্ব আছে না ! এ বাড়ি এখন আমার বুঝেছ আত্মীয় সজনের । সুতরাং আজ থেকে সোজা হয়ে যাও ।
ধনঞ্জয়ের বাবা এর পরে আর ওই বাড়ি যায় নি । ওই বাড়ি থেকে কিছু পাঠালেও খায় না । কেন খায় না , ব্যাপারটা এখন ও বুঝে । ওই বাড়িতে ধনঞ্জয়কে যেতেও দেয় না । এখন সে বুঝে বাবা হয়তো চায়নি ছেলে কষ্ট পাক । ছেলের দুঃখটা বাবা বুঝতে পেরেই এমনটা করেছে ।
দুঃস্বপ্নটা ও দেখেছে আজ । ওর বিয়ের ঘটনা । ওর মায়ের বয়সটা হটাত যেন বেড়ে গেছে । মা যেন কেমন বাকিয়ে বাকিয়ে বুড়ো মানুষের মতো হাঁটছে । বাবাও কেমন যেন বদলে গেছে । কেমন ফ্যকাশে বাবার মুখ । ছোট ভাইটাকেও ছন্নছাড়া লাগছে । নববধূ যেন সব কিছু দখল নিতে চাইছে । মা বাবা ভাইয়ের কষ্টের মুখ ও সহ্য করতে পারছে না । বুকটা ভেঙ্গে যাচ্ছে । নববধূ তার দোহাই দিয়ে সব কিছু থেকে ওকে পৃথক করতে চাইছে । ধনঞ্জয় পালাছে । কিন্তু পারছে না । নববধূ ওকে বাধতে চাইছে কিন্তু না ; পালাতে ওকে হবেই , মা বাবা ভাইয়ের কষ্ট ও সহ্য করতে পারবে না ।

Sunday, December 25, 2016

''স্মৃতিতে তুমি''

...............
ফেসবুকে ঢুকতেই বার্তা এলো-
''ফটিক ফটিক দয়াকলা
ফটিক নাচে বেহান বেলা
ওলো ফটিক ভাই
তোর কপালে বিয়া নাই ''
আপনি কি ছোটবেলার মতো এখনো ছাড়াটা বলেন ?
কেন বলুন তো ? আপনি কে ?
হায়রে রাজীব ঢালী ! তুমি আমারে চিন না !
Really , I do not know you . Who are you ?
সেই চৈত্র মাসের কলাই খেতের কথা ভুলে গিয়েছেন !
আমার কিছুই মনে নেই । কে বলছেন ? সত্যি করে বলুন তো ।
এরপর আমি প্রায় ৪০টা ম্যাসেজ দিলাম কোন উত্তর নেই কিন্তু সিন হচ্ছে !
ফোনটা বেজে উঠলো । একটা বিদেশী নাম্বার । ধরলাম । ওপাশ থেকে ভেসে আসছে তার কান্না !
গলাটা আমারও ভিজে আসছে; কিছুই বোলতে পারলাম না !
ফোনটা কেটে গেল !
মনে পড়লো সেই ছয় সাত বয়সের বালিকাকে ! সেই কলাইয়ের খেতের মধ্যে , উঠানের দৌড়া দৌড়ী !
সত্যি আজ তোমাকে খুব মনে পাড়ছে ! I really miss you . জীবনে যেন আমাদের একবার দেখা হয় !

সে আমাকে খুঁজেছে কিন্তু আমি তাকে খুজিনি ! কত স্বার্থপর আমি !

Monday, December 5, 2016

''বদনা বিষয়ক ভাবনা ''

.......................................
( ১ম পর্ব )
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠিয়া তাহার গলা না ধরিলে কেমন করিয়া চলে ! সেই মুহূর্তে তাহাকেই একমাত্র আপন বলিয়া মনে হয় । সে যে কি যাদু জানে, সেই জানে ! আজ সকালবেলা বৈকুণ্ঠে গিয়ে তাহার শ্রীরূপ প্রত্যক্ষ করিয়া নয়ন ভরিয়া গেল । আহা ! সামাদ স্যার ঠিকই বলিয়াছিলেন ,’’ মানব সভ্যতার সেরা আবিষ্কার বদনার নাল! ‘’ আহা ! বদনা , তার এবার নাল !’’
আমি বসিয়া বসিয়া সেই নাল আবিষ্কার করার শুভক্ষণের কথা কল্পনা করিতে লাগিলাম ।
মনে পড়িল সেই মনিষীর কথা । যিনি বলিয়া ছিলেন ,’’ কোন জাতিকে অপমান করিতে চাও , তাহলে তাহার বদনাগুল ধ্বংস করিয়া ফেল ।‘’
বদনার মাহাত্ম্য বলিয়া শেষ করা যাইবে না , তাই হয়তো বদনা লইয়া কবিরা মহাকাব্য লিখিবার সাহস দেখান নাই । তবে কেউ কেউ সেই দুঃসাহস দেখাইয়া রচনা করিয়াছেন চিরস্মরণীয় সেই কবিতা ,
‘’ শোন , মা জরিনা , বদনাটা কই ?
ত্বারা করে মোরে বল ।
প্রকৃতির ডাক আসিয়াছে মোর
এখনি লাগিবে জল । ‘’


শোনা যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার বনে গিয়ে বদনার সঙ্কটে পড়িয়াছিলেন । তখন তিনি রচনা করিয়াছিলেন সেই আমর কবিতাঃ
‘’ সে দিন দুজনে হেগে ছিনু বনে ,
বদনা ছিল না সাথে ,
তাল পাতা দিয়ে পাছা মুছে তাই
চলে আসিছিনু ঘরে ।‘’
এ প্রসঙ্গে এক লৌকিক কবিকে বাথরুমে গাহিয়া উঠিতে শুনিয়াছিলামঃ
‘’বদনা আমার ছ্যাদা হইয়া গেছে
পানি থাকে না । ‘’
এই পানি না থাকার অভিজ্ঞতা যাহার হইয়াছে , সে ইহকালে নরক ভোগ করিয়াছে , সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই বলিয়া মনে হইতেছে । একবার এক মহৎ ব্যাক্তি বাথরুমে যাইবেন বলিয়া স্থির করিয়াছেন কিন্তু তাহার বন্ধু মদন তাহাকে জব্দ করিবার জন্য বদনাখানা লুকাইয়া রাখিয়াছিলেন তখন তিনি গাহিয়ছিলেন, সেই আধ্যাত্মিক গান,
‘’ চাহি বদনা , বদনা দেয় না , মদনে
আমি বাথরুমে যাবো কেমনে ?
আমি বাথরুমে যাবো কেমনে ?’’
আমার দাদু তাহার এক বন্ধুর বিয়েতে গিয়েছিলেন । তাহারা যাইয়া দেখেন পাত্রী পক্ষ বিয়ের পাত্রী উলটাইয়া দিয়াছে । ছোট বোনকে দেখাইয়া , এখন বড় বোনকে বিয়ের পিড়িতে বসাইয়া দিয়াছে । পাত্র তাহা বুঝিতে পারিয়া , বিয়ের পিড়িতে বসিয়াই বলিল আমার বাথরুমে যাওয়া দরকার । তখন পাত্রী পক্ষ তাহাকে বাথরুমে লইয়া গেলে , তিনি বদনা লইয়াই দৌড়ে পালিয়েছিলেন ।
আমি ভাই , গ্রামের মানুষ , মাঝে মাঝে কোন শহুরে বাড়িতে কিংবা হোটেলে গেলে বাথরুমে দেখি বদনা নাই ! তখন যে আমার অবস্থা কি হয় , তাহা আমি জানি আর উপরওয়ালা জানেন ! ( আর তখন ব্যাকগ্রাউন্দে মিউজিক বাজেঃ
‘’এতো কষ্ট মেনে নেওয়া যায় না !
নিষ্ঠুর হোটেল ওয়ালা / বাড়ি ওয়ালা ।‘’ )
( চলবে ............)

Friday, December 2, 2016

বাঁশ

রাজীব ঢালী
-----
বাঁশ
ইহা আমার খুবই প্রিয় খাদ্য । বাঁশ ছাড়া আমার চলেই না । বাঁশের সুপ , বাঁশ ভাজি , বাঁশের তরকারি , বাঁশের পরটা , বাঁশের মামলেট , বাঁশের ভর্তা , বাঁশের খুচুরি কত খাইয়াছি , ভবিষ্যতে আরও খাইব । মাঝে মাঝে এমন ও বাঁশ খাইয়াছি, যাহা নিচের দিকের কোন এক দরজা দিয়া ঢুকিয়া উপরের দরজা দিয়া বাহির হইয়া গিয়াছে । তবুও তাহা হজম করিয়াছি । বাঁশ হজমে বিশেষ ক্ষমতা আমার আছে । না হইলে এতো বাঁশ হজম করি কি করিয়া ! বাঁশের নাম শুনিলেই এখন জিভে জল আসিয়া পড়ে , খাইতে ইচ্ছা করে । আমার হাতে ক্ষমতা থাকিলে বাঁশকে জাতীয় খাদ্য ও বৃক্ষ হিসেবে ঘোষণা করিয়া তবেই ক্ষান্ত হইতাম ।
আশা করিতেছি এই নির্বাচনে জিতিয়া , দেশের প্রধান হইব এবং জাতীয় বাঁশ নীতি , জাতীয় বাঁশ গবেষণা Institute , জাতীয় বাঁশ রক্ষা কমিটি , সংসদীয় বাঁশ কমিটি গঠন করিব ।
ঘরের আঙ্গিনায় বাঁশ রোপণ বাধ্যতামূলক করিব এবং খাবার সময় বাঁশের একটা আইটেম বাধ্যতামূলক করিব । বাঁশই আমাদের ঐতিয্য । সুতরাং বাঁশ কে রক্ষা করিতে যাহা করা লাগে তাহাই করিব । বাঁশ সম্পর্কিত যত সাহিত্য আছে , তাহাকে জাতীয় সাহিত্য বলিয়া ঘোষণা করিব । এবং বাঁশ দ্বারা পিটানো ও অন্যান্য বাঁশ দ্বারা পরিচালিত খেলাকে জাতীয় খেলা বলিয়া ঘোষণা করিব । বাঁশ দ্বারা পিটানো প্রতিযোগিতার আয়োজন করিব এবং ‘’বিশ্ব বাঁশ কাপ’’ আয়োজন করিব । যাহাতে বাঁশের মহিমা ও গৌরব সম্পর্কে বিশ্ববাসী জানিতে পারে ।
পাঠ্যপুস্তকে বাঁশ সম্পর্কে জ্ঞানীগুণীরা এখনো কিছু অন্তর্ভুক্ত করেন নাই । কিন্তু আমি করিব । পাঠ্যপুস্তক হইবে বাঁশময় । বাঁশের গুণগান থাকিবে সর্বত্র ।গ্রামে গ্রামে বানরের তৈলাক্ত বাঁশ বাহিয়া ওঠা প্রতিযোগিতার আয়োজন হইবে !ভাবিতেই আমার ভালো লাগিছে ।
বাঁশ কাটিয়া যে খাতা তৈরি করা হয় । তাহা নিষিদ্ধ করিব । সুতরাং পরীক্ষা দেওয়ার ঝামেলা হইতে ছাত্ররা মুক্ত হইবে । আর হ্যাঁ , দেশে যৌতুক নিষিদ্ধ করিয়া , বাঁশ দেওয়া চালু করিয়া দিব ।
থাক হইয়াছে আজ আর আপনাদের বাঁশ দিবো না । সামনের ভাষণে দিবো । সাথে করিয়া সরিষার তৈল ফ্রি দিব , যাতে বাঁশ খাইতে যেন বেশি কষ্ট না হয় ।

Tuesday, November 29, 2016

''ওস্তাদ, মহিলা আছে ''

...........................
বাসে উঠিয়াই দেখিলাম তিন সারি সিট খালি পড়ে রয়েছে । কিন্তু কোন বীরপুরুষ সেখানে বাসার সাহস করিতেছে না । আমি চার পাশ দেখিয়া বুঝিতে চেষ্টা করিলাম , তারপর ধপ করে ইঞ্জিন কভারের উপরে বসিয়া পড়িলাম । আর বার বার ফাঁকা সিটগুলির দিকে তাকাইতে লাগিলাম । ওখানে এক চশমাওয়ালী অষ্টাদশীকে ছাড়া আর কাউকে দেখা যাইতেছে না । ওখানে বসিলে ক্ষতি কে ? কিন্তু চারপাশে যে সকল বীর বানরের মত ঝুলিতেছে কিন্তু বসিতে সাহস করিতেছে না , তাহাদের দেখিয়া মনে হইলো , এই সেই নিষিদ্ধ গন্দম ফল , যাহা খাইলে এখনি বাস থেকে নির্বাসিত করা হইবে । ইহার পরে কত জম্বুবান , হনুমান , রাবণরাজ বাসে উঠিলেন , কেহই ওখানে বসিতে সাহস করিলেন না ।
এতক্ষণে , মাথায় বুদ্ধি কাজ করিতে আরম্ভ করিল । মনে পড়িল সেই ‘’সিডো সনদ’’ সেই ‘’UDHR’’ এর কথা , সেই ১২০ মাইল বেগে প্রদত্ত সাহানা নাসরিন ম্যামের লেকচারের কথা । আহা ! দেশে আজ কেমন নারী অধিকার প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে ! সিট খালি রহিয়াছে , কিন্তু কোন পুরুষ সেখানে বসিতেছেনা অথচ পুরুষদের সিটে নারীরা দিব্যি বসিয়া রহিয়াছে ! সেই দেশের নাগরিক হইয়া আমার বুকটা গর্বে ভরিয়া উঠিল ।
বাসে উঠিলে কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার ঘুম আসিয়া পড়ে । এবারো আসিয়া পড়িল , আমি ঘুমাইতে লাগিলাম । স্বপ্নে দেখিলাম , আমি ঐ ফাঁকা সিটে মিশরের রানী ক্লিওপেট্রার কাঁধে মাথা রাখিয়া ঘুমাইতেছি । আর ট্রয় এর হেলেন আমায় বাতাস করিতেছে ! এমন সময় রোমের সম্রাট সিজার আসিয়া তাহার তলোয়ারের ধাক্কায় আমায় ঘুম ভাঙ্গাইয়া দিল ! মেজাজটা এমন গরম হইল যে ব্যাটাকে একটা ‘’ও গোশি’’ মারিয়া বাসের বাহিরে ফেলিয়া দিলাম ।
বাসের সবাই চেঁচামেচি শুরু করিয়া দিল । ঘুম ভাঙ্গিয়া দেখিলাম হেল্পার কান্নাকাটি করিয়া বলিতেছে , মামা দিলেন তো মাজাটা ভাঙ্গিয়া ? আমি তো আপনারে শুধু শাহবাগ আসিয়া গিয়াছে বলিয়া ধাক্কা দিয়া ঘুম ভাঙাইতে চাহিয়াছিলাম মাত্র ।
আমি শুধু ‘’ধুর ব্যাটা চুপ থাক’’ বলিয়া ৫ টাকা ওর হাতে গুজিয়া দিয়া , ‘’ঔষধ কিনিয়া খাস,’’ বলিয়া বাস হইতে নামিয়া পড়িলাম  ।