Monday, January 8, 2018

বিয়ে মানে : Sex made-easy

কোথায় যেন পড়েছিলাম, "বিয়ে হচ্ছে বৈধ   পতিতাবৃত্তি।" আর মোতাহের হোসেন চৌধুরী তার 'সংস্কৃতি-কথা' প্রবন্ধে বলেছেন, "বিয়ে মানে : Sex made-easy".  বিয়েতে প্রেম থাকে না যা থাকে তা হল কোপাকুপি আর প্রয়োজনীয়তা। অর্থাৎ বিয়ে হচ্ছে বৃত্তি ( Basic Need) আর প্রেম হচ্ছে সুকুমারবৃত্তি বা শিল্প (Arts). প্রেমিক সাহসী আর হেজব্যান্ড/চুলেরব্যান্ড হলো  ভীরু কাপুরুষ যে মশারীর নিচে বসে মশা মারে।  আর প্রেমিক সে তো দুরন্ত সাহসী রাতের আঁধার পার হয়ে কলা গাছের আড়ালে কিংবা রিক্সার হুড় তুলে দিয়ে প্রেমিকার ঠোঁটে ঠোঁট লাগাতে কুন্ঠিত হয় না।  তাই সমাজ তাকে ভয় পায়; কারন সমাজ ভীরুতা পছন্দ করে সাহসীকতা নয়।  তাই এই শীতে প্রেমিকাকে হ্যা বলুন,  বউকে না বলুন,  সাহসী হোন।  

Saturday, January 6, 2018

গুরুদক্ষিণা!

"পুত্রের পিতৃঋণ তখনই সার্থক যখন সে নিজে পিতৃত্ব লাভ করে পিতার বংশ রক্ষা করে। তেমনি শিষ্যের গুরুঋণ তখনই সার্থক হয় যখন সে গুরুত্বে উন্নীত হয় গুরুর ন্যায় বেদবৃক্ষ হয়ে। এটাই হল শিষ্যের শ্রেষ্ঠ দক্ষিণা।"

গুরুর সংজ্ঞার খোঁজ আমি করছি না; সে সাহসও আমার নেই।  কারন গুরুর আশীর্বাদ ছাড়া আমি অন্ধ। আমার সকল দৃষ্টি, অনুভুতি, সক্ষমতার মূলে রয়েছেন আমার গুরু।

গুরুদক্ষিণা!
শিষ্যের মুখে গুরুদক্ষিণা শব্দটা উচ্চারণ করাটাও পাপ।  কারন গুরুদক্ষিণার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে "শিক্ষা বা দীক্ষা দানের জন্য প্রাপ্য অর্থ প্রভৃতি।"  গুরুঋন কি অর্থ দিয়ে শোধ করা যায়?  যায় না।  যে আবেগ, ভালোবাসা, আত্মিক বন্ধন, পুত্রস্নেহ গুরুর শিষ্যের প্রতি তা অপরিশোধযোগ্য; এটা মাপা যায় না শুধু অনুভব করা যায়।

একলব্য!
গুরুদক্ষিণার প্রবাদপুরুষ।  নিষাদরাজ হিরন্যধনুর পুত্র একলব্য দ্রোণাচার্যের কাছে অস্ত্রশিক্ষা লাভ করতে এসে  প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় মনের দুঃখে গুরু দ্রোণাচার্যের মাটির মূর্তি নির্মাণ করে ধনুর্বিদ্যা চর্চা করতে লাগলেন।  গুরুভক্তি ও অধ্যবসায়ে সে সেরা অস্ত্রকুশলী ও ধনুর্ধারী হয়ে উঠল।

কিন্তু অর্জুন!  যাকে দ্রোণাচার্য আশীর্বাদ করেছিলেন, "তোমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ শিষ্য আমার আর হবে না।" অর্জুনের শ্রেষ্ঠত্ব রক্ষার জন্য দ্রোণাচার্য একলব্যের কাছে গুরুদক্ষিণা চেয়েছিলেন, " যথার্থই  যদি আমার শিষ্য হও তবে আমার গুরুদক্ষিণা দাও।"  যা ছিল  একলব্যের ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল!  ফলে একলব্যের তীর নিক্ষেপের ক্ষমতা হ্রাস পায় ও অর্জুনের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় থাকে।

গুরুর প্রতি এই ভক্তির নমুনা স্বরূপ একলব্য হয়ে গেলেন গুরুদক্ষিণার অপর নাম। লোকে তাই বলে " একলব্য মানেই গুরুদক্ষিণা।"

আর দধিচী!
গুরু যেখানে নেই তিনিও সেখানে নেই।  আগে গুরু তারপর সামাজিকতা।  দধিচী  ছিলেন শিবের শিষ্য।  তো শিবের শ্বশুর দক্ষ "বৃহস্পতি" নামে মহাযজ্ঞে শিবকে  নিমন্ত্রন করেননি।  দধিচী দক্ষকে এই শিবহীন যজ্ঞ করতে নিষেধ করেন।  দক্ষ এ নির্দেশ না মানায় দধিচী সেই যজ্ঞ অনুষ্ঠান বর্জন করেন।  অর্থাৎ আমার গুরু যেখানে নাই আমিও সেখানে নাই।

আর দ্রোণাচার্য-অর্জুন!
অর্জুন গুরুদক্ষিণা দিতে চাইলে দ্রোণাচার্য বলেন, " যদি আমি কখনো তোমার সাথে যুদ্ধে রত হই তুমিও আমার সাথে প্রতিযুদ্ধে লিপ্ত হবে; গুরুর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারনে কোন সংকোচ করবে না। "
শ্রেষ্ঠ গুরুর শেষ্ঠ গুরুদক্ষিণা!





Monday, January 1, 2018

- I love you. - Thank You, Vaiya !

-  I love you.
- Thank you vaiya.
কেমন লাগে বলুন তো?  ইহাই ছিল আমার প্রেমের আবেদনের প্রতিউত্তর।  সে রূপসী, সর্বাঙ্গসুন্দরী মানসী, প্রাণোচ্ছল হাসিধারিনী।  তাহার  স্বর্ণকান্তী দেহছটা,  গ্রীষ্মের সূর্যের মত রূপদ্যুতি,  তাই এতো দেমাগ?

জানিতে চাও সে কে?  সে হতে পারে বৈষ্ণব পদাবলীর রাধিকা, নীল নদের সর্পখ্যাত ক্লিওপেট্রা কিংবা মেনিলাউসের  এর স্ত্রী হেলেন কিংবা ইতালিয়ান ফিল্মের মনিকা বেলুচ্চি।  তাহার মুক্তাজ্যোতি দন্তরাশী,  নৃত্যছন্দ,  পদ্মনাল বাহুদ্বয়,  রক্তজবা লিপিস্টিক,  মস্তিষ্কের নির্ঘুম হরমোনকে প্রভাবিত করে জাগিয়ে রাখলো আজ রাত।

তাহার জন্য হতে পারি রানী ইসাবেলার নৌ সেনাপতি ফার্নাদেস কার্তেজ কিংবা ভাস্কো -দা- গামা কিংবা কবি জন ডাইন,  তারপর বলিতে পারি " For God sake hold your tounge and let me love. "

 যুবক তুমি করিয়াছ ভুল,  DNA এর ডাবল হেলিক্স গঠন পড়িয়াছ,  ব্যাবলিয়ন অ্যালজেবরা আর জটিল অ্যালগরিদম বুঝিয়াছ,  দর্শনের শূন্যবাদ থেকে নৈরাশ্যবাদ গিলিয়াছ,  অপটিক্যাল ফাইবার থেকে টুইস্টেট ক্যাবল দিয়ে তথ্য পাচার করিয়াছ কিন্তু মেয়ে মানুষের মনে ঢুকিবার কৌশল কিংবা সিস্টেম Crack করিতে শিখো নাই।  তাইতো তাহার ভাইয়া ডাক মহাভারতের  অভিমন্যু বধের ন্যায়  চক্রব্যূহ রচনা করিয়া সপ্তরথী সদৃশ্য তীর নিক্ষেপ  করিতেছে।
এ প্রেম যন্ত্রনার প্রতিষেধক কি ডেভিডসনের "মেডিসিন" এ লেখা আছে ? নিউরোলজি কি বলেছে এ বিষয়ে?

Shelly,  Keats,  D H Lawrence,  বিদ্যাপতি,  চন্ডীদাস,  মুকুন্দদাস বাঁচিয়া থাকিলে আজ তাহাকে লইয়া লেখা হইত  verse কি verse,   পংক্তি কি পংক্তি।  ননজুডিশিয়াল স্টাম্পে লিখিয়া দিতে পারি কার্ল মার্কস নেশাকে  দেখিলে বুর্জোয়া,  প্রলিতেরিয়েত শ্রেনী বিভাগের সাথে নেশা প্রেমিক সম্প্রদায়ও  অন্তর্ভুক্ত করিতেন।
যদি কোন প্রেমবীক্ষন যন্ত্র থাকিত বা প্রেমমিটার  বলিয়া কিছু থাকিত তাতে মাপিয়া দেখাইতাম অনুভুতির মাত্রা কত।   

Tuesday, November 7, 2017

Her বাল

আপনারা এতো Herbal প্রডাক্ট ব্যাবহার করেন, Hisbal ব্যাবহার করেন না কেন?
- ভাই কি সমকামী নাকি ?
# কাঁটাবন সেলুন রঙ্গ #

মনিপুরী রাসলীলা

আমার মতো তরুন পুরুষে কি দেখে ? দেখে লাল লিপিস্টিক, কাজল দেওয়া চোখের ভিতর নিকষ কালো চোখের মনি শুধু এদিক যায় আর ওদিক যায় সাথে সৌন্দর্যপিপাসু মনও দোল খায়। আর যখন ভ্রুর কটাক্ষের সাথে রক্তজবা বাঁকা ঠোঁটে মুচকি হেসে পাশের জনকে বলে এই দেখো নাগর তখন মনে হয় তো আমি শেষ। আর এই সুন্দরী যখন কৃতজ্ঞতা স্বরূপ মিষ্টি হেসে বলে Thank You তখন তো মনে হয় আকাশ থেকে পড়ে চুরমার ছারখার হয়ে গেলাম।
চোখের মুগ্ধতা মনে গিয়ে লেগেছে । তাহার আলতা দেওয়া সোনার বরণ পাও বুকে নিয়েইতো জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়। এতো রূপ এতো সৌন্দর্য ! জানি না সত্যিকারের রাঁধা কেমন ছিল তবে আমার চব্বিশ বছরের জীবনে দেখা সেরা রূপবতী সে। অবশ্য তাহার চোখে আমি একজন ভিনদেশী যুবক একজন বাঙাল।
একজন মনিপুরী সুন্দরী কি ভাবে বসে ? বসে তার ড্রেসের ভিতবে, বসে বসে ডাগর ডাগর চোখে তাকিয়ে থাকে। চোখে যেন খঞ্জনি পাখি খেলা করে।
রাত জেগে দেখা মনিপুরীদের এই রাসলীলা দেখে সকালে ঘুমাতে গিয়েও স্বপ্নে দেখেছি সে আলতা দেওয়া পায়ের রূপ, মেহেদি দেওয়া হাতের চলন। মুগ্ধতা যেন কাটেই না। আট বছরের নিচে মাধব আর রাইকে ঘিরে ব্রজবালাদের নৃত্য, সখি বিশাখার নৃত্য সারা রাত জাগিয়ে রেখেছে আমাকে। প্রথম সারিয়ে ভিনদেশ দাড়িওয়ালা যুবককে দেখে সুন্দরীরা বারবার তাকাচ্ছিল আর চোখাচোখি হচ্ছিল আর পুরূষ যেহেতু ভ্রমরের জাতি ঠিক থাকে না মতিগতি তাই ভাবছিলাম এর মধ্যে আসলে কে বেশী সুন্দর কিন্তু যার দিকে তাকাই তাকেই আরো ভালো আগে, আহা! আহা! আর এই সুন্দরীদের রূপসুধা পান করে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলাম, ইহাকে আমি অপহরণ করিয়া লইয়া যাইবো ।
পরে বন্ধুর কাছে শুনলাম নিলে অপহরণ করেই নিতে হবে কারন মনিপুরীরা ভিনজাতের ছেলেদের সাথে মেয়ে বিয়ে দেয় না। নাচের পরে এক সুন্দরীর সাথে কথা বলতে পারতাম, সুন্দরী নাচের মাঝে প্রশংসা বানীতে গলে গিয়েছিল কিন্তু বললাম না কারন থাকনা এ মুগ্ধতা, এ দেবদুহিতার সাথে জীবনে আর কোন দিন হয়তো দেখাই হবে না কিন্তু এ মুগ্ধতা, সৌন্দর্যপিপাসু মনের এ সন্তুষ্টি চিরদিনই থাকবে।

মনিপুরী সংস্কৃতি

মনিপুরী সংস্কৃতি এতো সমৃদ্ধ জানতাম না ! অনান্য জায়গায় দেখেছি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতিসত্তার, বিভিন্ন ভাষার গান বাজিয়ে, অনেকটা মিশ্র দ্রব্য, পোশাক, খাদ্য দিয়ে অনুষ্ঠান করতে কিন্তু মনিপুরীরা এতোটাই মৌলিক যে একটা অনুষ্ঠানের সব সামাজিক প্রয়োজন মেটাতে পারে (খাদ্য, নৃত্য, গান, বাদ্যযন্ত্র, ভাষা সাজ, পোশাক সব সবকিছু) । বাংলাদেশের জাতিসত্তার অন্যতম সেরা জীবন দর্শন ও পোশাক তাদের বিশেষ করে মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী নাচের পোশাক তো আমার কাছে দারুন মনে হয়েছে। 
তাদের খাবারটাও অসাধারন। ওনারা পেয়াজ খান না, তেল ও মসলা কম দিয়ে যে রান্নাটা করেন যেন অমৃত। আতপ চালের ভাত এই প্রথম আমি খেলাম। খেলাম শুটকি মাছের তৈরি শীতল ( নাম ভুল হতে পারে।) ইলিশ মাছের তরকারির সাথে একটু একটু করে শীতল নিয়ে খেতে দারুন লেগেছে। প্রথম জানতাম না এভাবে খেতে হয়, আমি ওটা দিয়ে ভাত মাখিয়ে ফেলেছিলাম পরে বন্ধু বলল এভাবে খা। খাবার শেষে খেলাম দুধ, যেমন মিষ্টি তেমন স্বাদ ! (নিজস্ব খামারের দুধ) । মনিপুরীরা মাংস খান না তাই দুগ্ধজাত দ্রব্য বেশী খেয়ে থাকেন।
রাখাল নৃত্য দেখার পরে খেয়েছিলাম নাডু, মুড়ি, চিড়া, তিলের তৈরি অসাধারন স্বাদের খাবার।
ওঁরা অনেক অতিথি পারায়ণ, দুই দিনে মনে হয়েছে আমি নিজের পরিবারের সাথে, নিজের সাথীদের সাথে আছি। ছোলা ভাজি দিয়ে আতপ চালের ভাত আর সিমের বিচি (সম্ভাবত) দিয়ে রান্না করা ডালের স্বাদতো এখনো মুখে লেগে আছে। আর হ্যা, ওরা খুব পান খায়, ও পান দিয়ে সবাইকে আপ্যায়ন করতে ভালোবাসে, রাসলীলা দেখার সময় আমাকেও চারপাশের মানুষ পান সেধেছে কিন্তু খাই নি, এখন পস্তাচ্ছি কেন খেলাম না ওই খাসিয়া পান?


সিলেটি বগা

স্থান - মাধবপুর লেক, বন্ধুকে বললাম যে আমি বান্দরবনের বগা লেকেও গিয়েছি। 
বন্ধু হেসে হেসে কুটিকুটি হয়ে বলে, আমাদের এখানে (সিলেটে) বগা মানে কি জানিস? 
- কি? 
-ধোন। 
-আরে শাউয়া ! ধোনরে যে বগা কাও তা আগে কবা না ?